সাকিব-হৃদয়দের দলকে হারিয়ে এলপিএল চ্যাম্পিয়ন শানাকার দল
প্রথম কোয়ালিফায়ারে ঝড়ো ফিফটি করা তাওহিদ হৃদয় জ্বলে উঠতে পারলেন না শিরোপার মঞ্চে। ব্যাটিংয়ে কিছু করতে পারলেন সাকিব আল হাসানও। পরে যদিও দারুণ বোলিংয়ে দুটি উইকেট নিলেন তিনি। কিন্তু অল্প পুঁজি নিয়ে পেরে উঠল না তাদের দল। জাফনা কিংসকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো গল গ্যালান্টস।
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে গলের জয় ৫ উইকেটে। জাফনাকে ১২৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২৫ বল হাতে রেখে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে দাসুন শানাকার দল।
শ্রীলঙ্কার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তিনটি ফাইনালে হারের পর অবশেষে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেল গল ফ্র্যাঞ্চাইজি। গল গ্ল্যাডিয়েটরস নামে প্রথম দুই আসরের ফাইনালে ও গল মার্ভেলস নামে পঞ্চম আসরের ফাইনালে জাফনা ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছেই হেরেছিল তারা। এবারের আসরে প্রথম কোয়ালিফায়ারেও জাফনা বিপক্ষে তারা তেতো স্বাদ পেয়েছিল।
প্রথমবার ফাইনালে হারলেও চারটি শিরোপা জিতে এখনও এলপিএলের সফলতম দল জাফনা ফ্র্যাঞ্চাইজি।
কলম্বোয় শনিবার হৃদয় ১০ বলে করতে পারেন ১০ রান। সাকিব ৯ রান করতে খেলেন ১৩ বল। বল হাতে চার ওভারে ১৫ রানে ২ উইকেট শিকার করেন ৩৯ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার।
আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে জাফনা। আভিশকা ফার্নান্দো ও কামিল মিশারা উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ২৫ রান। শেষ পর্যন্ত এটিই হয়ে থাকে দলটির সর্বোচ্চ জুটি!
নিয়মিত উইকেট হারায় জাফনা। ১৬ বলে ২০ রান করে ফেরেন আভিশকা। খাওয়াজা নাফে বিদায় নেন শূন্য রানে।
চার নম্বরে নেমে একটি চার মারেন হৃদয়। অষ্টম ওভারে লেগ স্পিনার সাচিন্দু কলম্বাগের বল উড়িয়ে মেরে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন তিনি।
অধিনায়ক ভানুকা রাজাপাকসা, দুনিথ ওয়েলালাগে ও সাকিব দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। পাঁচ চারে ৩২ বলে ৪১ রান করে ফেরেন মিশারা।
আট নম্বরে চামিন্দু উইক্রামাসিংহের ১৬ বলে ২৪ রানের ক্যামিওতে একশ ছাড়াতে পারে জাফনা।
আঁটসাঁট বোলিংয়ে গলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নেন চারিথ আসালাঙ্কা ও ইশান মালিঙ্গা।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় গলের শুরুটা ভালো ছিল না। প্রথম দুই ওভারে স্যাম হার্পার ও আসালাঙ্কাকে হারায় তারা।
১০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে ৬৪ রানের চমৎকার জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন টমাস রজার্স ও দিনুরা কালুপাহানা।
পাওয়ার প্লেতে এক ওভার বোলিং করে একটি চারে ৫ রান দেওয়া সাকিবকে আক্রমণে ফেরানো হয় নবম ওভারে। এই ওভারের প্রথম ও শেষ বলে দুই থিতু ব্যাটসম্যানকেই বিদায় করে দেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।
অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে হাঁটু গেড়ে স্লগ সুইপের চেষ্টায় ক্যাচ তুলে দেন রজার্স (২৭ বলে ৩২)। দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হন দিনুরাকে (১৯ বলে ৩১)।
নিজের পরের ওভারে কেবল ২ রান দেন সাকিব। তার বোলিং ফিগার তখন ৩-০-৮-২!
জয় থেকে ২১ রান দূরে থাকতে চামিকা কারুনারাত্নেকে হারালেও গলকে দুর্ভাবনায় পড়তে হয়নি। সাকিবের শেষ ওভারে প্রথম বলে চার মেরে দেন শানাকা। এই ওভারে আসে ৭ রান।
পরের ওভারে লিজাড উইলিয়ামকে পরপর চার ও ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন শানাকাই। ৯ বলে ২০ রানে অপরাজিত থাকেন শিরোপা জয়ী গল অধিনায়ক।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ