শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬

৪ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ কর্মীদের

সোনার দেশ ডেস্ক ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৮ অপরাহ্ন রাজনীতি
সোনার দেশ ডেস্ক ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৮ অপরাহ্ন
৪ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ কর্মীদের

কোম্পানি করে বিনিয়োগের নামে চার জামায়াতে ইসলামীর নেতা ১২ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলটির কিছু কর্মী।


বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘ভুক্তভোগী মাজলুম পরিবার’ এর ব্যানারে মানববন্ধন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বিনিয়োগ করা টাকা উদ্ধার এবং জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।


যে চার জামায়াতে ইসলামীর নেতার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন- কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট), জামায়াতের রোকন আব্দুস সালাম সুজা (ফুলবাড়ী) এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক বায়তুল মাল সদস্য রফিকুল ইসলাম (ভোগডাঙ্গা)।


তারা ২০২০ সালে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ১৫০ জামায়াতে ইসলামীর সদস্যের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- মো. তৈয়ব আলী, নোমান বিল্লাহ, মাহফুজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, রুহুল আমীন ও মোসলেমা বেগম।


মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, লাভাংশ ও মূলধন ফেরত না দিয়ে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে জামায়াতের চার নেতা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তখন বিষয়টি জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার আমিরকে জানানো হলে, চারজনের সদস্য পদ স্থগিত করা হয় এবং আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ জানান তিনি।

বক্তারা বলেন, কিন্তু জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির সমাধান করতে ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগীরা এই চার নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ বক্তারা।


এদিকে অভিযুক্তদের একজন শাহজালাল সবুজ বলেন, “ভিশন এন্টারপ্রাইজের ব্যবসাটি মূলত রফিকুল ইসলামের (রাজারহাট) ব্যক্তিগত ছিল। আমরা যৌথ চুক্তি করলেও কোনো ব্যবসায় অংশ নিইনি। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”


অপর অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট) দাবি করেন, “আমরা চার পরিচালক চুক্তিবদ্ধভাবে ব্যবসাটি শুরু করলেও মোট ছয়জন পরিচালক আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। লাভ-ক্ষতির দায় সব পরিচালকেরই। দেনা পরিশোধের জন্য আমি পরিচালকদের নিয়ে বার বার বসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। আমাকে এককভাবে আসামি করে ৪০টিরও বেশি মামলা দেওয়া হয়েছে।”


বিষয়টি নিয়ে জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, ঘটনার তদন্তে জেলা জামায়াত একটি কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রফিকুল ইসলামকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে এবং শাহজালাল সবুজের রোকনিয়াত দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অপর দুজনের সংশ্লিষ্টতা তেমন প্রমাণিত হয়নি।


“তবে আমরা ভুক্তভোগীদের পাওনা টাকা ফেরতের বিষয়ে যে কোনো ন্যায়সঙ্গত ও আইনসঙ্গত পদক্ষেপের পাশে থাকব।”


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ