রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ
রাজশাহী থেকে নাটোর হয়ে যাওয়া আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। হঠাৎ করে শ্রমিকরা বাস বন্ধ করে দেয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
শুক্রবার (০৪ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে নাটোর জেলার ওপর দিয়ে অন্য গন্তব্যে যাতায়াত করা রাজশাহীর বাস বন্ধ আছে। রাত আটটা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ ছিল। তবে দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক আছে।
এদিকে টার্মিনালে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এই বাসগুলো নাটোর হয়ে রংপুর ও খুলনা বিভাগে যাওয়া আসা করে। নাটোরে বন্ধ করে দেয়ায় রাজশাহীর বাসগুলোর চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
শামিম নামের এক বাস শ্রমিক বলেন, নাটোরের বাস শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী-দর্শনা বাসের যাত্রী নামিয়ে ওদের (নাটোরের) গাড়িতে পাঠিয়ে গাড়ি আটকে রেখেছিল। এ ঘটনার জেরে বাস চলাচল বন্ধ আছে।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ আছে। যেসব বাসগুলো নাটোরের ওপর দিয়ে যায়, সে বাসগুলো বন্ধ করা হয়েছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত বাস কোনো সমাধান আসেনি। তাই বাস চলাচল শুরু হয়নি।
নাটোর জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, রাজশাহীর রাব্বি পরিবহনের একটি বাস কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই নাটোরে প্রবেশ করলে নাটোরের মালিক-শ্রমিকরা সেটি রাজশাহীতে ফেরত পাঠিয়ে দেন। পরে নাটোরের ছয়-সাতটি বাস রাজশাহীতে আটকে দেয়া হয়।
এ ঘটনার জেরে নাটোর-রাজশাহী রুটে বাস চলাচল বন্ধ আছে। তবে ঢাকাসহ অন্য জায়গার বাস চলাচল স্বাভাবিক আছে।
নাটোর বাস মালিক সমিতির সভাপতি লক্ষণ পোদ্দার বলেন, রাব্বি পরিবহনের একটি বাস নিয়ম না মেনে রাজশাহী থেকে নাটোর হয়ে আলমডাঙ্গা রুটে চলাচলের চেষ্টা করে। এ বিষয়ে নাটোর বাস মালিক সমিতি সম্মতি না দেওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহীতে যাত্রীসহ নাটোরের তুহিন পরিবহন ও আরপি রোকেয়া পরিবহনসহ কয়েকটি বাস আটকে রাখা হয়। এ সময় শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে, দুই পক্ষের বিরোধে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তির পুরো চাপ পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। হঠাৎ বাস বন্ধের কারণে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থল, পরীক্ষা কিংবা জরুরি কাজে যেতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন অনেকেই।
যাত্রীদের দাবি, মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের অবসান ঘটিয়ে নাটোর-রাজশাহী রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।