মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

বগুড়ার গাবতলীতে এসি-ল্যান্ড পদ শূন্য থাকায়, বিপাকে সেবা গ্রহীতারা

বগুড়া প্রতিনিধি: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া প্রতিনিধি: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৮ অপরাহ্ন
বগুড়ার গাবতলীতে এসি-ল্যান্ড পদ শূন্য থাকায়, বিপাকে সেবা গ্রহীতারা

বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ভূমি অফিসে হাজারো নামজারি আবেদনের স্তূপ। নামজারিটা হলে কেউবা জমি বিক্রি করে মেয়ের বিয়ে দিবে, কেউ করাবে চিকিৎসা অথবা ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ। কিন্তু অফিসে সহকারি কমিশনার (ভূমি) না থাকায় থমকে থাকা আদালতের মামলা আর প্রতিদিন ভূমি অফিসের বারান্দায় মানুষের দীর্ঘ নিঃশ্বাস— বর্তমান চিত্র এটিই। দীর্ঘ দিন ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের পদটি প্রায় ২মাস যাবত শূন্য থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একটু জমির মালিকানা বদল বা নামজারির জন্য দিনের পর দিন ঘুরেও মিলছে না সমাধান।



উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাসে জমা পড়া প্রায় এক হাজার নামজারি আবেদন এখনো ফাইলবন্দী হয়ে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় পড়ে আছে। শুধু নামজারিই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মিসকেস এবং আদালতসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার কার্যক্রমেও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের জট।


ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আর হতাশা যেন লুকানোর নয়। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অফিসে এসেও কোনো লাভ হচ্ছে না। ফাইলগুলোর দিকে কেউ তাকানোর নেই। জমির মালিকানা হস্তান্তর বা ক্রয়-বিক্রয়ের মতো জরুরি কাজগুলো আটকে থাকায় বিপাকে পড়েছেন অনেকে।


অফিস সূত্রে জানা যায়, পূর্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে শামীম ইসলাম প্রায় দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর বদলি হন। এরপর গত ৮ জুলাই শাহানাজ পারভীন এই পদে যোগ দিলেও মাত্র সাত দিনের মাথায় তিনি দায়িত্ব ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকেই গাবতলী উপজেলা ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি পুরোপুরি ফাঁকা পড়ে আছে।


আর এসিল্যান্ড না থাকার এই সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে  সিন্ডিকেট অসাধু চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের শীর্ষ এই পদটির অনুপস্থিতির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে তদারকির অভাবে ভেজালপণ্য তৈরী সহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কর্মকান্ড যেন বেশ স্বাচ্ছন্দের সাথেই চলছে।


জনদুর্ভোগের এই বিষয়টি নিয়ে কথা হয় উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো জহুরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, এসিল্যান্ড না থাকায় যেসব দাপ্তরিক কাজে সুনির্দিষ্ট অনুমোদন বা সিদ্ধান্ত জরুরি, সেগুলোর গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।


এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান পৌরসভাসহ একযোগে তিনটি দপ্তরের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। তার কাজের প্রচণ্ড চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নিজে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি দাবী করেন।


এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, নামজারি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ নেই। এর মাঝেই অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হচ্ছে তাঁকে। তবে স্বস্তির খবর হলো, জনগণের ভোগান্তি কমাতে তিনি নিজ উদ্যোগে নামজারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ২৩০টি নামজারি সফলভাবে সম্পন্নও করেছেন।


প্রশাসনের এমন উদ্যোগে কিছুটা আশার আলো দেখছেন সাধারণ মানুষ।

তবে এসিল্যান্ড পদটিতে স্থায়ী কোনো কর্মকর্তা দ্রুত যোগদান না করলে এই দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী।