হজের পথে নিশ্চিন্ত যাত্রা, সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সুবিধা
পবিত্র হজের সফর অনেকের জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত যাত্রা। কিন্তু লাখো মানুষের ভিড়, অচেনা দেশ আর দীর্ঘ ব্যবস্থাপনার জটিলতায় এই ইবাদতের সফরকে নির্বিঘ্ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই যাত্রায় আবাসন, খাবার, কুরবানি ও যাতায়াতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা এক প্যাকেজে নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরে সরকারি মাধ্যমে হজ পালনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহীতে সরকারি মাধ্যমে হজযাত্রী বৃদ্ধি সংক্রান্ত এক কর্মশালায় হজ প্যাকেজের এসব সুবিধা তুলে ধরা হয়। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ। ভার্চুয়ালি আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (হজ) মো. রফিকুল ইসলাম।
এ ছাড়া আলোচক ছিলেন হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) বেলায়েত হোসেন। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক একেএম মুজাহিদুল ইসলাম। হজ পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন সরকারি হজ গাইড জাহাঙ্গীর আলম ও একেএম মুস্তাফিজুর রহমান।
এছাড়াও কর্মশালায় ১৫০ জন হাজী অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় জানানো হয়, সরকারি ‘হজ প্যাকেজ-১’-এ বাংলাদেশ ও সৌদি পর্ব মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। অন্যদিকে সাশ্রয়ী ‘হজ প্যাকেজ-২’-এর ব্যয় ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। সরকারি প্যাকেজে মক্কায় হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে আনুমানিক ১ থেকে ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার দূরত্বে হোটেলে আবাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মদিনায় থাকবেন হাজিরা মার্কাজিয়া এলাকায়। প্যাকেজের সঙ্গে কুরবানির অর্থও অন্তর্ভুক্ত।
মক্কা ও মদিনায় সৌদি কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত ক্যাটারিং কোম্পানির মাধ্যমে তিন বেলা খাবার সরবরাহ করা হবে। মিনায় জোন-২-এ তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে। মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায় যাতায়াতে থাকবে ট্রেনসেবা। মক্কার হোটেল থেকে মিনার তাঁবুতে নেওয়া হবে বাসে।এ ছাড়া সংযুক্ত বাথরুমসহ মক্কা ও মদিনার প্রতিটি কক্ষে সর্বোচ্চ ছয়জনের আবাসন, রেফ্রিজারেটর ও পানির জারের ব্যবস্থাও থাকবে। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, হজযাত্রার মতো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সফরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যবস্থাপনার সুযোগ-সুবিধা মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।