শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

লাগামহীন নিত্যপণ্য, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৬ অপরাহ্ন
লাগামহীন নিত্যপণ্য, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বৃদ্ধি

 রাজশাহীর খুচরা ও পাইকারি কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি শাকসবজির দাম বেড়েছে। বাজারে একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের দৈনন্দিন বাজারের খরচ বেড়েছে। ফলে আগের মতো পরিমাণে সবজি কিনতে পারছেন না অনেকেই।


শুক্রবার  ১১ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর সাহেববাজার ও উপশহর কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১১০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। গোল বেগুন ও লম্বা বেগুন কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, পটল ৪০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়।


বাজারভেদে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। কাঁচাকলা এক হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা প্রতি কেজি। সাইজের ওপর নির্ভর করে লাউ প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কাঁচা পেপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কাঁকরোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, বরবটি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি, ধুন্দল ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি প্রতি। শাকের বাজারে লালশাকের প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পুঁইশাক ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 


মসলার বাজারে পেঁয়াজের প্রতি কেজির খুচরা মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। তবে রসুন ও আদার বাজারে বেশ চড়া ভাব লক্ষ্য করা গেছে। আমদানিকৃত রসুন ১২০ থেকে ১৪০  টাকা, দেশি রসুন প্রতি কেজি ৮০ - ১১০ এবং আদা আমদানিকৃত ১৪০ - ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 


সাহেব বাজার বিক্রেতা আব্দুল করিম জানান, দাম বাড়লে সব থেকে বেশি সমস্যা আমাদের হয়। একে তো বিক্রি কমে যাই, তারপর মানুষ আমাদেরকে দোষ দেয়। কিন্তু আমাদের হাতে কোনো কিছুই নাই। যখন বেশি থাকে বাধ্য হয়ে আমাদেরও বেশি টাকাতে বিক্রি করতে হয়। 


মাংসের বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংসের দামের বর্তমানে ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় পৌঁছেছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সোনালী মুরগি পাওয়া যাচ্ছে ২৯০ থেকে ৩৩০ টাকা।  


এছাড়া মাছ যেমন, তেলাপিয়া মাছ ২০০ -৩০০ টাকা কেজি, পাবদা মাছ ৩৫০ - ৪০০ টাকা কেজি, কই মাছ ২০০ - ২৫০ টাকা কেজি, সিলভার কার্প মাছের দাম ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি এবং পাংগাস মাছের দাম ১৭০ থেকে ২৩০ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়াও বাজারে ২ কেজির ঊর্ধ্বের বড় রুই মাছের খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং সাধারণ মানের রুই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। বড় কাতল মাছ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ কাতল ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের পছন্দের তালিকায় থাকা ইলিশ মাছ (মাঝারি ৫০০-১০০০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা কেজিতে। মানুষের নিত্য দিনের খাবার লাল ডিম ৫০ টাকা হালি, সাদা ডিম ৪০-৪২ টাকা হালি ,দেশি মুরগির ডিম ৬০ থেকে ৭০ এবং হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা হালি। 


ক্রেতা রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় বাসিন্দা ও বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, বেতন তো বাড়ে না, কিন্তু প্রতি সপ্তাহে বাজারে এলে সবজির দাম নতুন করে বাড়ে। মাছ মাংস থেকে শুরু করে শাকসবজি—কোনো কিছুতেই হাত দেওয়ার জো নেই। আয়ের সাথে ব্যয়ের কোনো মিল পাচ্ছি না, বাধ্য হয়ে কেনাকাটার তালিকা ছোট করতে হচ্ছে। 


তানভীর আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জানান, আমরা যারা মেসে থেকে পড়াশোনা করি, তাদের জন্য পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। সীমিত পকেটমানি আর টিউশনির টাকায় চলতে হয়। কাঁচাবাজারে এমন আগুন দামের কারণে আমাদের মিল রেট অনেক বেড়ে গেছে। ডাল-ভাত ছাড়া পুষ্টিকর কোনো খাবার খাওয়ার উপায় নেই।