মার্কিন সেনা নিধনে চিনা স্যাটেলাইটের সাহায্য নিয়েছিল ইরান?
গত জুলাইয়ে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন ও মিসাইল হামলা হয়। এর পিছনে কোনও চিনা স্যাটেলাইটের সহযোগিতা ছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখছে আমেরিকা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক আল সালতি বিমান ঘাঁটিতে হামলার চালানোর জন্য ইরান উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করে। হামলায় নিহত হন তিন মার্কিন সেনা। পাশাপাশি, আহত হন বেশ কয়েকজন।
মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, গত ১৭ জুলাই ওই বিমান ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় দু’বার চিনা স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করা হয়। সেখান থেকেই চীন ও ইরানের গোপন সামরিক আঁতাত স্পষ্ট হয়েছে বলে ওয়াকিবহল মহলের দাবি। ইরানকে সাহায্যকারী চিনা সংস্থাগুলি সরকারি নাকি বেসরকারি, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা নেই মার্কিন গোয়েন্দাদের। অন্যদিকে, আমেরিকার এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে চীন।
তবে মার্কিনি তদন্ত শুধু বিমান ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ নেই। তাদের যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিনের মতো নৌসম্পদ ট্র্যাক করতেও চীন সাহায্য করছে কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখছে আমেরিকা। সম্প্রতি মার্কিন বিমানবাহী জাহাজেও ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার ক্ষেত্রে নিখুঁত লক্ষ্যভেদও সেই সন্দেহ বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ঠিক তার আগেই এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসায় দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে মিতারভিশন আর্থ আই এবং চাং গুয়াং-র মতো একাধিক চিনা স্যাটেলাইট সংস্থাকে ইরানকে মদত দেওয়ার অভিযোগে আগেই নিষিদ্ধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এমনকি এই ঘটনার প্রভাব পড়তে পারে ভারতে আয়োজিত আসন্ন ব্রিকস (ইজওঈঝ) সম্মেলনেও। চিন ও ইরান এই জোটের সদস্য হওয়ায় এবং আমেরিকা তাদের বিরোধিতা করায় পরিস্থিতি বেশ জটিল। সম্মেলনে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রসঙ্গে এই সম্মেলনে ভারতের ভূমিকা হতে পারে মধ্যপন্থী। ওই অঞ্চলে শান্তি, কূটনীতি এবং সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে ব্রিকসের ঐক্য অটুট রাখাই লক্ষ্য ভারতের।
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন