মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কাল থেকে আগের অবস্থায়: প্রধানমন্ত্রী

সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:২৯ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:২৯ অপরাহ্ন
শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কাল থেকে আগের অবস্থায়: প্রধানমন্ত্রী
‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সৌজন্যে।

শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকে আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে সরকারকে তাদের মেয়াদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।


তিন ঘণ্টার এই দীর্ঘ আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।


দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।


বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে সরকারপ্রধান বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে।


তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক-দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’


ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন করা হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে এবং আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।


১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।


ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে আপনারা আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে। এতটুকু আমরা আপনাদের জানাতে চেয়েছি যে, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই।’


গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বড় কোনো কাজ সফলভাবে করতে হলে একটি কার্যকর দল প্রয়োজন। সরকার সেভাবেই কাজ করছে, যাতে দেশের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।


তিনি আরও বলেন, দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।


মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।


ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের (আইসিসি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজেএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক এবং বাপা সভাপতি মাহবুব আনাম উপস্থিত ছিলেন।


এছাড়া গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান আলোচনায় অংশ নেন।


তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ