মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

স্ক্যাম সেন্টার: কম্বোডিয়ায় ‘বন্দি’ ৩২ জনের খোঁজ চায় পরিবার

সোনার দেশ ডেস্ক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫২ পূর্বাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
স্ক্যাম সেন্টার: কম্বোডিয়ায় ‘বন্দি’ ৩২ জনের খোঁজ চায় পরিবার
কম্বোডিয়ার একটি স্ক্যাম সেন্টার। ছবি: রয়টার্স

ফেনীর মহিপালের জাহিদুল ইসলাম প্রায় এক বছর আগে হিমেল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ছয় লাখ টাকা খরচ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায় পাড়ি জমান।


ভাগ্য বদলের আশায় গেলেও সেখানে যাওয়ার পর তিনি এক স্ক্যাম সেন্টারে দুই মাস কাজ করার সুযোগ পান এবং বাকি সময় বেকার বসে ছিলেন।


পরে দেশে ফেরার জন্য আবেদন করে কাজের পাওনা টাকা বুঝে পাওয়ার পর সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখে দেশে ফেরার টিকেট কাটেন।


জাহিদুল ওইদিন নমপেনে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে পৌঁছানোর পর তার সঙ্গে শেষবার কথা হয় ঢাকায় থাকা তার স্ত্রী সুমা আক্তারের।


সুমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সেদিনের পর থেকে স্বামীর সঙ্গে তিনি আর যোগাযোগ করতে পারেননি।


তবে ‘মধ্যস্থতাকারীদের’ সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পেরেছেন, আরও ৩১ জন বাংলাদেশির সঙ্গে জাহিদুলও ‘এক জায়গায়’ আটকে আছেন।


কবে নাগাদ তিনি দেশে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে সুমা কিছু জানতে পারেনি। এ অবস্থায় তার দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে।


অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের পুরনো সংকটের মধ্যেই গত কয়েক বছরে নতুন বিপদ হয়ে উঠেছে কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টার।


ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠানোর পর দালালরা জাহিদুলের মত ভুক্তভোগীদের আক্ষরিক অর্থেই ‘বিক্রি’ করে দেয় অন্য প্রতারকচক্রের হাতে।


পরে তাদের রাখা হয় এমন সব স্ক্যাম সেন্টারে, যেখানে তাদের কাজ হয় অনলাইনে যোগাযোগ তৈরি করে অন্য মানুষদের টাকাপয়সা হাতিয়ে নেওয়া।


কথামত কাজ না করলে ভাগ্যে জোটে শারীরিক নির্যাতন, বেতন তো দূরে থাক, সেখান থেকে ছাড়া পেতে উল্টো টাকা খরচ করতে হয় তাদের। কখনো মারধর করে, কখনো হুমকি দিয়ে দেশে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে টাকা আদায় করা হয়।


একই গল্প গাজীপুরের কালীগঞ্জ সদরের শাওনের। জাহিদুলের মত তারও ৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা ছিল; কিন্তু ফেরা হয়নি।


তার মা আসমা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শাওন কম্পিউটার অপারেটরের কাজ পাবেন জেনে ২০২৫ সালের এপ্রিলে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দিয়া কম্বোডিয়ায় যান। শান্ত নামের যে ব্যক্তি তাকে সেখানে পাঠিয়েছিলেন, তিনিও কম্বোডিয়াতেই থাকেন, কালীগঞ্জেই তার খালার বাড়ি।


“পোলা আমার হেনে গিয়া ঠিকমতো কাজও পায় নাই, বাড়িতে টাকা-পয়সাও পাঠাইতে পারে নাই। উল্টা হেন (স্ক্যাম সেন্টার) থাইকা বের হওয়ার লাইগা বাসা থাইকা অনেক চাপ দিয়া আমগোর কাছ থাইকা আরও ৯৫ হাজার টাকা দেওয়াইছে।”


ছেলের বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানাতে গিয়ে আসমা বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর শাওনের দেশে আসার কথা আছিল। কিন্তু ৪ তারিখে শেষবার ফোন দিয়া তিনি বলেন, “ইমিগ্রেশনে আছি আমরা, ইমিগ্রেশন পুলিশ হেফাজতে আছি। কখন আমাদের ফ্লাইট দিব কিছুই জানি না।


“এরপর থাইকা পোলার মোবাইলও বন্ধ, ওই শান্তর মোবাইলও বন্ধ। আমগোর লগে আর কোনো যোগাযোগ নাই, আমরা লাইনেই পাই না।”


কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে এ বছরের জুন মাসেই সেখান থেকে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি ভুক্তভোগী দেশে ফিরেছেন।


কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে এ বছরের জুন মাসেই সেখান থেকে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি ভুক্তভোগী দেশে ফিরেছেন।


টিকেট পেয়েও ফিরতে পারলেন না ৩২ জন

কম্বোডিয়া সরকার গত জুন মাসে জরিমানা ছাড়া অতিরিক্ত সময় অবস্থানরত বিদেশিদের স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেয়। এরপর শুধু জুনেই ৫৮৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসেন।


পরে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুরোধে বিনা জরিমানায় দেশে ফেরার সময় ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ায় কম্বোডিয়া সরকার।


এরপর ৩ সেপ্টেম্বর আরেক দফায় কম্বোডিয়া থেকে আরও ৩৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসেন।


কিন্তু একই দিনে আরেকটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে ফেরার জন্য টিকেট কেটে ইমিগ্রেশনের অপেক্ষায় থাকা ৩২ জন বাংলাদেশিকে নমপেন বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়। পরে তাদের কম্বোডিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশের ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।


সেখানে আটক একাধিক বাংলাদেশির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পেরেছে, তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তারা কোথায় আটকা পড়েছেন, সে বিষয়েও কিছু জানেন না পরিবারের সদস্যরা।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) জহির ইমাম রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দূতাবাসের পক্ষ থেকে আমরা কম্বোডিয়ার সর্বোচ্চ অথোরিটির সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে ওই ৩২ জনকে দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।


“তাদেরকে সেখানকার ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে ফোন ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাই তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। আমরা স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে তাদের জন্য কিছু খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি এবং যোগাযোগ করার চেষ্টা চালাচ্ছি।”


ফিরতে চেয়েও পারলেন না ১৭৯৬ জন

কম্বোডিয়া সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ে ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা অন্তত ১ হাজার ৭৯৬ জন ফের সেখানে আটকা পড়েছেন।


এসব বাংলাদেশি কম্বোডিয়া সরকারের দেওয়া সময়ের মধ্যে দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। তাদের অধিকাংশই বাধ্য হয়ে কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করেছেন।


বৈধ কাগজপত্র ও বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে যাওয়ার পরও সেখানে গিয়ে স্ক্যাম সেন্টারে আটকা পড়েছিলেন তারা।


দূতাবাসের নির্দেশনায় দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা এই বাংলাদেশিরা রিফান্ডেবল (ফেরতযোগ্য) টিকেট কেনার পর এখন সেই টিকেট রিফান্ড করতে বলা হচ্ছে।


কী কারণে তারা ফিরতে পারলেন না, তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন রয়েছে, পাশাপাশি টিকেটের পুরো অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে কি না, প্রশ্ন রয়েছে তা নিয়েও। এ ঘটনায় কূটনৈতিক সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।


নমপেনে আটকা পড়া ঢাকার খিলগাঁওয়ের একজন দীর্ঘদিন ধরে দেশে ফিরতে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ করেছেন।


নানারকম চেষ্টার পর ১ সেপ্টেম্বর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয় দালালের তরফে। কিন্তু, দূতাবাসে নাম অন্তর্ভুক্ত করার পরও তিনি ফিরতে পারেননি।


স্ক্যাম সেন্টারে আটকা ওই ব্যক্তি এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন, কারা তাকে কম্বোডিয়ায় নিল, কী প্রক্রিয়ায় কম্বোডিয়ায় গেলেন সে বিষয়ে মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছেন।


বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে, তিনি গিয়েছিলেন দালালের মাধ্যমে। এখন সেই দালাল তাকে দেশে ফিরতে দিচ্ছেন না বলে ভাষ্য তার স্ত্রীর।


কী কারণে এতগুলো মানুষ ফিরতে পারলেন না, তার ব্যাখ্যায় দূতাবাসের কর্মকর্তা জহির ইমাম বলেন, “মুশকিল হল বিভিন্ন ধরনের লোক, বিভিন্ন উপায়ে কম্বোডিয়ায় ঢুকেছে; তারাও এই তালিকায় নাম ঢুকিয়ে দেশে ফিরতে চাচ্ছে।


“পরে যখন কম্বোডিয়ার অথরিটি ইন্টারভিউ নিচ্ছে, তখন দেখা যাচ্ছে যে তারা অন্যভাবে (অবৈধভাবে) এসেছিল। তখন তারা (কম্বোডিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ) বেশ ডিপ ইন্টারভিউ নিচ্ছে। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যারা আটকে পড়েছেন, তাদের ফেরত পাঠানোর। তারা তো আসলে দেশেই ফিরতে চান।”


ফেরার আগে বাধা, চলে মানসিক নির্যাতন

৩ সেপ্টেম্বর যারা দেশে ফিরে এসেছেন, তাদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, নমপেন বিমানবন্দরে তাদের দেশে ফেরার পথে বাধা দিয়েছিল সেই দেশে থাকা দালালচক্রের সদস্যরা; এমনকি ভয়ভীতিও দেখানো হয়েছিল।


কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আলিফ ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির মাধ্যমে গত বছরের ৩০ অক্টোবর কম্বোডিয়া যান নরসিংদীর ইটাখোলার রামপুরের মাজহারুল ইসলাম। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি বুঝকতে পারেন, তাকে আসলে কাজ দেওয়া হয়েছে একটি স্ক্যাম সেন্টারে।


প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে নমপেনে আটকে রাখা হয়। ১১ মাস পর গত ৩ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন।


মাজহার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দালালদের কারসাজির কারণে তাদের দেশে ফিরতে অতিরিক্ত দুই মাস সময় লেগেছে।


তিনি অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে আরো অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য দালালরা সময়ক্ষেপণ করেছিল।


দেশে ফেরার পর বাংলাদেশ বিমানবন্দরে সিআইডি অফিস থেকে তার ব্যবহৃত ফোনটি জব্দ করা হয়েছে, যা তিনি এখনো ফেরত পাননি।


এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন মাজহার।


ফেরত আসা ব্যক্তিদের বরাতে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মকর্তারা বলছেন, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত কিছু বাংলাদেশি মানবপাচারকারী প্রতারণার শিকার বাংলাদেশিদের ফেরার পথে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং চাপ দেন।


উন্নত দেশে বেশি বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে নিয়ে তাদের অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়। তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।


কাজ নেই, তবু দেড় বছরে গেছেন ১৬ হাজার

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ বাংলাদেশি চাকরির আশায় কম্বোডিয়ায় গেছেন। গত জুন মাসে ফিরে আসা ৫৮৩ জনের অনেকের কাছেই বিএমইটির ছাড়পত্র ছিল।


দেশে ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের দাবি, ছাড়পত্র ঠিকঠাক পেলেও সেখানে এখনও হাজার হাজার বাংলাদেশি চাকরি না পেয়ে কিংবা প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।


ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য বলছে, কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার সার্ভিসসহ বিভিন্ন পদের বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব কর্মীদের ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে চাকরির প্রলোভন দেওয়া হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্ক্যাম সেন্টারে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়।


কম্বোডিয়ায় কোনো দূতাবাস না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত লোক সেখানে যেতে পারল, কারা অনুমোদন দিল, এয়ারপোর্টে কারা ছাড় দিল এবং বিএমইটি থেকে কীভাবে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হল–এই পুরো প্রক্রিয়া অনুসন্ধানে জনশক্তি কল্যাণ, স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি আলাদা তদন্ত কমিশন গঠন করা দরকার বলে মনে করছেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মকর্তারা।


পাশাপাশি, যারা জেনে-শুনে বা স্বেচ্ছায় স্ক্যাম সেন্টারের মত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে, কিংবা যেসব দালাল চক্র এই মানব পাচারের পেছনে কাজ করছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এখনই তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা উচিত বলে তারা মনে করেন।


কম্বোডিয়ায় যাদের স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়, তাদের অনেকেই ফিরে এসে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন।


কম্বোডিয়ায় যাদের স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়, তাদের অনেকেই ফিরে এসে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন।


দুই দেশেই সক্রিয় চক্র

প্রায় চার বছর স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করে সম্প্রতি কৌশলে দেশে ফিরে এসেছেন, এমন একজনের সঙ্গে কম্বোডিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের কাজের ধরন নিয়ে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, কম্বোডিয়ায় লোক নিতে দুই দেশেই পাচারকারী চক্র কাজ করে। বাংলাদেশে যে চক্র কাজ করে, তাদের কাজ হচ্ছে, বিভিন্ন কাজের কথা বলে কম্বোডিয়ায় লোক পাঠানো। যেহেতু এখানে লোকজন অনেকেই কিছু বোঝে না, তারা যায়।


“আমিও তেমনি গিয়েছিলাম। যাওয়ার পরে কম্বোডিয়ার চক্রটি আমাদের রিসিভ করে। তারা চীনা একটি চক্রের কাছে তুলে দেয় আমাদের। আমরা সাত জন গিয়েছিলাম একসঙ্গে। এরপর আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর একটি ভবনে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়।


“সেখানে ফিশিং লিংক দিয়ে অর্থ দাবি, বিকৃত ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং, হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়সহ নানা ধরনের সাইবার অপরাধ করতে বাধ্য করা হয়।”


তিনি বলেন, “আমরা যখন ফেরার চেষ্টা করলাম, তখন বলা হল দেশে যেতে হলে টাকা দিতে হবে। টাকা দিলাম। এরপরও আটকে রাখল প্রায় ৬ মাস। বলা হল, আমরা কি কাজ করেছি, কোথায় করেছি, তা প্রকাশ করলে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। না বলার শর্তে পরে আমাদের ফেরত পাঠিয়েছে।”


এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন।


তাদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্ত হয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোর করে সাইবার প্রতারণার কাজে যুক্ত করা হয়।


এসব বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যারা আটকা পড়েছেন, তাদের বিষয়ে এ মুহূর্তে কোনো তথ্য জানা নেই। সরকারের তরফে এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।


“আমরা এখন থেকে কম্বোডিয়ার ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি যাচাই-বাছাই করা এবং কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেহেতু সেখানে গিয়ে অনেকেই স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, তাই আমরা এ পদক্ষেপ নিচ্ছি।”


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ