মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

মানবাধিকার নিয়ে মাহদী-টিআইবির পাল্টাপাল্টি দাবি

সোনার দেশ ডেস্ক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৫৪ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৫৪ অপরাহ্ন
মানবাধিকার নিয়ে মাহদী-টিআইবির পাল্টাপাল্টি দাবি

গত সাত মাসে দেশে রাজনৈতিক কারণে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তবে তার এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, তাদের হাতে থাকা তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।


টিআইবির হিসাবে, এই সময়ে বাকস্বাধীনতা চর্চার কারণে হয়রানির ৫২টি ঘটনা, ৫৮ জনকে আটক, হেফাজতে নির্যাতনের ৫১টি ঘটনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সাতজনের মৃত্যু এবং একটি গুমের ঘটনা ঘটেছে।


মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহি সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য উঠে আসে।


সভায় মাহদী আমিন বলেন, গত সাত মাসে বিএনপি সরকার অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে। কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।


১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী জঞ্জাল একবারে মূলোৎপাটন করা কঠিন।


তিনি বলেন, গত সাত মাসের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একবারের জন্যও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় দেখা যায়নি।


কোথাও রাষ্ট্রীয় মদদে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা হেফাজতে মৃত্যু হয়নি। রাষ্ট্রীয় মদদে বিরোধী দলের মত ও পথ কিংবা ভিন্ন আদর্শের মূল্যবোধ হরণ করা হয়নি।


মাহদী আমিন বলেন, ‘ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা’ নিশ্চিত হয়েছে। কোথাও কোথাও অশালীন ও অস্রাব্য আচরণ করা হলেও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতা ও সহাবস্থান দেখা যাচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাও ছিল এমনই।


তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ। বিএনপি সরকারের মধ্যে সব মত, শ্রেণি ও পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব এবং সমর্থন রয়েছে। বাংলাদেশে এতদিন গণতন্ত্রের ঘাটতি ছিল এবং ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল। কারণ এমন একটি সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে ছিল, যার ক্ষমতার উৎস জনগণ ছিল না। তাদের ক্ষমতার উৎস ছিল রাষ্ট্রযন্ত্র, বিভিন্ন বাহিনী, বিচার বিভাগ, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও প্রশাসন।


তার ভাষ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার ক্ষমতায় এলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠে।


তবে মাহদী আমিনের বক্তব্যের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উপদেষ্টা বলেছেন একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটেনি। কিন্তু তাদের কাছে থাকা তথ্য তা বলে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তথ্য বলছে ভিন্ন কথা।


তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা চর্চার কারণে কমপক্ষে ৫২টি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক হয়েছেন। বাকস্বাধীনতার কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক করা ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রত্যাশিত ছিল না।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ার পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুলিশ এখনো নৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তারপরও বেশ কিছু বিষয় তাদের উদ্বিগ্ন করছে।


তিনি বলেন, কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা কমপক্ষে ১ হাজার ৭০০টির বেশি। এর মধ্যে ৫০৩টি ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে।


ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, আটক অবস্থায় নির্যাতন বা হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনা হওয়ার কথাই ছিল না। কিন্তু এমন ৫১টি ঘটনা ঘটেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একটি গুমের ঘটনাও ঘটেছে। ওই ঘটনায় একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িত।


পরে মাহদী আমিন আবারও বলেন, রাজনৈতিক কারণে কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তার জানা মতে ঘটেনি। এর আগে একটি নির্দিষ্ট অফিস থেকে, রাষ্ট্রের শীর্ষ অফিস থেকে তালিকা করা হতো এবং সেই তালিকা দেওয়া হতো। এতে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকত।


তিনি বলেন, বিশাল রাষ্ট্র কাঠামোর কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে ভুল-ভ্রান্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হয়ে থাকলে সেটি জবাবদিহির আওতায় আসছে।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও নারী নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা প্রমুখ।


তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ