এআই প্রযুক্তি চিরতরে নিষিদ্ধের দাবি মার্কিন সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের!
মানবকল্যাণ না ধ্বংস? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোন দিকে ঠেলে দেবে মানবজাতিকে? এই নিয়ে বর্তমানে উত্তাল বিশ্ব। এআই সংস্থা অ্যান্থ্রোপিকের গবেষক কক্সনের পদত্যাগের পরই বিতর্ক দানা বাঁধে। শেষমেশ মুখ খোলেন অ্যান্থ্রোপিক প্রধান আমোদিও-সহ ওপেনএআই, স্পেসএক্স এবং মাইক্রোসফটের কর্তারাও। এ বার আরও উন্নততর এআই প্রযুক্তির উদ্ভাবনের বিরুদ্ধে সরব হলেন মার্কিন সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। এআই ল্যাবগুলির অনিয়ন্ত্রিত দৌড় বন্ধ করতে এবং মানবজাতির সুরক্ষার জন্য সেনেটে একটি নতুন বিল পাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য গ্রেগ কাসারের জন্য যৌথভাবে এই নতুন বিল পেশ করতে চান তিনি, এমনটাই খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।
জানা গিয়েছে, তাঁদের প্রস্তাবিত নয়া বিলটির নাম-’ব্যান আর্টিফিশিয়াল সুপারইন্টেলিজেন্স অ্যাক্ট’। যার মূল লক্ষ্য, মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই উন্নত অও মডেলের অবাধ উন্নতি থামাতে হবে। এ জন্য বিলে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে-
১। মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে টেক্কা দিতে পারে বা তাঁদের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিতে পারে, এমন কোনও কৃত্রিম সুপারিন্টেজেন্স তৈরি বা প্রয়োগ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
২। এআই মডেলগুলির পর্যবেক্ষণ, সুরক্ষা মান বজায় রাখা এবং স্বশাসনের উপর হ্রাস টানতে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ অও নিয়ন্ত্রক সংস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৩। স্বাধীন এআই নিয়ন্ত্রক সংস্থার এআই মডেলগুলি পর্যালোচনা শুরুর হওয়ার আগে এআই উন্নয়নের কাজ সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখতে হবে।
পাশাপাশি, প্রস্তাবিত বিলে আইন ভাঙলে আইনপ্রণেতারা কোন কোন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে পারেন, তারও উল্লেখ রয়েছে। সেই অনুযায়ী, কেউ যদি নিয়মবিধি ভেঙে সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির চেষ্টা করে তা হলে পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধের মতো সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হবে। আইন অমান্যকারী সংস্থার ক্ষেত্রে ‘কর্পোরেট ডেথ পেনাল্টি’ বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এর অধীনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল, সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে যাতে কোথাও এমন প্রযুক্তি তৈরি না হতে পারে, সেজন্য বিশ্বব্যাপী চুক্তি, মিত্র দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে জোর দেবে মার্কিন সরকার।
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন