‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাসিকের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা জরুরি’
মহানগরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। এর অংশ হিসেবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনের সিটি হল সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। সভায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, কীট তত্ত্ববিদ, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত সচেতনতাও অত্যন্ত জরুরি। এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবনসহ আশপাশের এলাকায় কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত দেখতে হবে ও পরিস্কার করতে হবে।
সভায় বক্তারা নগরবাসীর প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজ আঙিনা ও বাসাবাড়ি পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পরিত্যক্ত পাত্র, টব, ডাবের খোসা, টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো পরিষ্কার ও অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্য্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। অতীতে কোন সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছি কিনা, আমাদের জানা নেই। প্রধানমন্ত্রী কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীর কর্মী হয়ে আমিও কাজে বিশ্বাসী। নগরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সকলে সম্মিলিতভাবে আমাদের কাজ করতে হবে। নগরবাসীর সহযোগিতায় আমরা একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও ডেঙ্গুমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি আরো বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যদি পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা সহ ইত্যাদি স্থানে পানি জমতে না দেন, তাহলে এডিস মশার প্রজননস্থল অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন সবাই নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।”
তিনি আরো বলেন, ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি রাজশাহীর রয়েছে। এই সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে চাই। রাজশাহী মহানগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই। আরও সবুজ নগরী গড়তে ইতোমধ্যে দুই লাখ ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইনশাল্লাহ লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি গাছের চারা আমরা রোপণ করতে পারবো।
রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্টার ডা. মোফাখখারুল ইসলাম।
সভায় ডা. মোফাখখারুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সকলকে ভূমিকা রাখতে হবে। বাসা বাড়িতে সপ্তাহে একদিন এবং প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুইদিন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিশেষ কার্যক্রম চালাতে হবে। এডিস মশার বিস্তার রোধে বাড়ির ভেতর এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, পরিত্যক্ত কন্টেইনার পাত্রসহ অন্যান্য জায়গায় পানি জমে থাকলে প্রতি তিন দিনে এক বার পরিস্কার করতে হবে। ডেঙ্গুর উৎপত্তি স্থল ধ্বংস করতে হবে। যেসব এলাকায় বেশি ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যাবে, সেসব এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আজিজুল হক আজাদ বলেন, ডেঙ্গুর প্রাদূর্ভাব রাজশাহীতে বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর। যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। দিনে বা রাতে যে কোন সময় ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার কামড়ে এর সংক্রমন ঘটতে পারে। দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করা। পাশাপাশি এ রোগের লক্ষণ জ্বর ছাড়াও শরীরের যে কোন অসুস্থতার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে এ বিষয়ে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।
সভায় ডেঙ্গু বিষয়ের সার্বিক তথ্য উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা কীট তত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা এবং বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য কার্যালয়ের কীট তত্ত্বীয় টেকনিশিয়ান মো. আব্দুল বারী। ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের গৃহীত পদক্ষেপের তথ্য চিত্র উপস্থাপন করেন রাসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু।
রাসিকের সচিব মো. সোহেল রানার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় রাসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলরবৃন্দ আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, তাছমিনা খাতুন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক,রামেকের নাক কান গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হক,সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল মুকিত, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ ফজলে রাব্বি রেহান, ইএনটি আবাসিক সার্জন ডাঃ ইফতেখার আলম মাসুম, ইএনটি রেজিস্টার ডা. মোহা.আসফাক হোসেন, রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মোঃ মামুন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এফ.এ.এম আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মোঃ নূর-ঈ সাঈদ, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম খান সহ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।