মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

রাজস্থানে পৌরসভা নির্বাচন: একটি করে ভোট পেলেন বিজেপি-কংগ্রেসের প্রার্থীরা

সোনার দেশ ডেস্ক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
রাজস্থানে পৌরসভা নির্বাচন: একটি করে ভোট পেলেন বিজেপি-কংগ্রেসের প্রার্থীরা
বিজেপি ও কংগ্রেসের দলীয় পতাকা। ছবি: পিটিআই

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের পৌরসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও কংগ্রেস পার্টির প্রার্থীদের মাত্র একটি করে ভোট পাওয়া এবং রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টির (আরএলপি) প্রার্থীর কোনও ভোট না পাওয়ার মতো বিস্ময়কর ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।


সোমবার রাজস্থানের ডিডওয়ানা-কুচামন জেলার পরবতসর পৌর নির্বাচনের এই ফল প্রকাশের পর তা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যের শাসকদল বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে মাত্র একটি ভোট পড়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।


পরবতসর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন কৈলাস চন্দ্র। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তিনি পেয়েছেন মাত্র ১ ভোট। কৈলাস চন্দ্রের ক্ষেত্রে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, তিনি যে ১৩ নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে লড়েছেন, সেখানকার ভোটারই তিনি নন।


কৈলাস পাশের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হওয়ায় নিজের ভোটটিও নিজেকে দিতে পারেননি। তার পাওয়া একমাত্র ভোটটি ওই ওয়ার্ডের অন্য কোনও ভোটারের দেওয়া।


বিজেপি’র মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী কেন মাত্র ১টি ভোট পেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাকে কি কেবল প্রার্থী দেওয়ার নিয়ম রক্ষার জন্যই দাঁড় করানো হয়েছিল?


স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির কোনও প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছিল না। সেকারণে কংগ্রেস যাতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই কৈলাস চন্দ্রকে প্রার্থী করা হয়েছিল।


তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে তাকে প্রার্থী করা হয়েছিল এবং প্রার্থী বাছাইয়ের সময় দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত কী ছিল, সে বিষয়ে বিজেপি নেতাদের কোনও স্পষ্ট বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।


বিজেপি প্রার্থীকে কে ভোট দিয়ে শুন্যের লজ্জা থেকে বাঁচাল তা নিয়েও চলছে চর্চা।


একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে নাগৌর জেলার রিয়ানবাড়ি পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডেও। সেখানে কংগ্রেস পার্টির প্রার্থী মাজিদ মোহাম্মদও মাত্র ১টি ভোট পেয়েছেন। আর বিজেপি’র সুনীল কুমার চৌহান জয়ী হয়েছেন।


আরও আজব ঘটনা ঘটেছে বালতোরার সিন্ধরি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টির (আরএলপি) প্রার্থী ওম প্রকাশ একটি ভোটও পাননি (০ ভোট)। ওয়ার্ডটিতে শতাধিক ভোটে জয়ী হন কংগ্রেসের ভানওয়ারা রাম। আর বিজেপির খেমা রাম পান ৯৩ ভোট।


আরএলপি’র বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে এবং দলের একাধিক প্রার্থী স্থানীয় নির্বাচনে জয়ও পেয়েছেন। সেই দলের একজন প্রার্থী শুন্য ভোট পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।


এই ঘটনার পর আরএলপি প্রার্থী ওম প্রকাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। ওম প্রকাশের দাবি, তার নিজের পরিবারেই ১০ জন ভোটার ছিলেন এবং তিনি নিজেও নিজেকে ভোট দিয়েছিলেন। তারপরও কীভাবে শূন্য ভোট পেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন ওম প্রকাশ।


সাধারণত বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এমন নামমাত্র বা শূন্য ভোট পাওয়ার ঘটনা বিরল। সেকারণেই রাজস্থানের এই স্থানীয় নির্বাচন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ভারতজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।


রাজস্থানের ৩০৯টি পৌরসভা ও নগর স্থানীয় সংস্থার এই নির্বাচনে ১০ হাজারের বেশি কাউন্সিলর পদে ভোট হয়েছিল। সোমবার ভোটের ফল প্রকাশ হয়। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারি প্রশাসন ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছে। তবে বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, বিডিনিউজ