বাধায় ছয় মাস ধরে বন্ধ সাড়ে ৯ কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণকাজ, দুর্ভোগ চরমে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায় একাডেমি মোড় থেকে দেবীনগর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ ড্রেন নির্মাণকাজ ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের বাধায় আটকে আছে প্রায় ৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকার এই উন্নয়নকাজ। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিন চলাচলকারী হাজারো মানুষ। বৃষ্টিতে সড়কের গর্তে পানি জমে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পাশে রয়েছে থানা, হাসপাতাল, সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়, সোনালী ব্যাংক, বীমা কার্যালয়, এতিমখানা, মাদ্রাসা ও মসজিদ। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। ড্রেন নির্মাণের জন্য খুঁড়ে রাখা অংশে চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের দাবি, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাতে হবে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় দুই বছর আগে আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। ২ হাজার ১০০ মিটারের মধ্যে প্রায় ৩০০ মিটার অংশের কাজ এখনো বাকি। পৌরসভার দাবি, স্থানীয় তিন ব্যক্তি সরকারি জায়গায় মাটি কাটতে বাধা দেওয়ায় গত ছয় মাস ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ড্রেন নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু পৌরসভার নির্ধারিত জায়গায় মাটি কাটতে স্থানীয় তিনজন বাধা দেওয়ায় কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পৌর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা যাবে।
এদিকে, কাজে বাধাদানকারী হিসেবে উল্লেখ করা স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুর ও আলিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অপর বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, তাঁর বাড়ির মধ্যে পৌরসভার ৪ থেকে ৫ ফুট জায়গা রয়েছে। বাড়ির দেয়াল থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হলে বাড়িঘর নিরাপদ থাকবে। এ কারণে তাঁরা আপত্তি জানিয়েছেন।
শিবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ড্রেন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত পৌরসভার জায়গায় কয়েকজনের বাড়ি ও একটি মসজিদের কিছু অংশ পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ কবে কমবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।