মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬

নৌকায় বিদায় নেবেন দেবী দুর্গা

মণ্ডপগুলোতে বিদায়ে সুর
নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৯ অপরাহ্ন
নৌকায় বিদায় নেবেন দেবী দুর্গা

এ বছর দেবী দুর্গা মর্তে এসেছিলেন ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে। বিদায় নিচ্ছেন নৌকায় চড়ে। এর মধ্যে দিয়ে শেষ হচ্ছে ৬ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব। নবমী পূজা ও সন্ধ্যা আরতি শেষে বিদায়ের সুর বাজতে শুরু করেছে। বিজয়া দশমীতে বিদায় নেবেন মা দুর্গা। মহানবমীতে দেবীর বন্দনায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে বিষাদের সুর বাজতে শুরু করেছে। দুর্গতিনাশিনী মহিষাসুর মর্দিনীর আরাধনা শেষ হলে কৈলাশে স্বামীগৃহে ফিরবেন মা দুর্গা।


মহানবমী পূজার দিনে রাজশাহী নগরীর মণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। ভক্তরা মণ্ডপে অঞ্জলি ও ভোগ দিয়েছেন। নবমী পূজার মাধ্যমে মানবকূলে সম্পদ লাভ হয়। তাই শাপলা, শালুক ও বলিদানের মাধ্যমে দশভুজা দেবীর পূজা হয়েছে। নীল অপরাজিতা ফুল মহানবমী পূজার বিশেষ অনুষঙ্গ। নবমী পূজায় যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আহুতি দেওয়া হয়। ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ ও ঘি দিয়ে এই যজ্ঞ করা হয়।


হিন্দু শাস্ত্রমতে, এই নবমী তিথিতে রাবণ বধের পর রাজা শ্রী রামচন্দ্র এই পূজা করেছিলেন। নীলকণ্ঠ ফুল ও যজ্ঞের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় নবমী বিহিত পূজা।


বছরান্তে দেবী দুর্গার আগমনে এ বছর ৬ দিন দেশের প্রতিটি মন্দিরে বিরাজ করছিল আনন্দ আর উদ্দীপনাময় এক পরিবেশ। মন্দিরে মন্দিরে বেজে ওঠে ঢাক, ঢোল, কাঁসর, ঘণ্টা আর শঙ্খ ধ্বনিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে আবহমান বাংলা। উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে নৈসর্গিক নির্জনতা। মন্দিরে মন্দিরে মন্ত্র উচ্চারণ আর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বিশ্বের অশুভ শক্তিকে তাড়িয়ে শুভ কামনা করা হয়।


নগরীর কয়েকটি মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মণ্ডপগুলোতে সকাল থেকে মানুষের আনাগোনা দেখা যায়, যা বিকেলের দিকে ভিড়ে পরিণত হয়। বিশেষ করে বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তারা নতুন পোশাকে পরিবারের সঙ্গে এসেছে। 


দুর্গাপূজার দিনগুলোতে নতুন পোশাক পরে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং স্মৃতিময় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করা তরুণ-তরুণীদের অন্যতম আকর্ষণ। দশমীতেও সেই আয়োজনের ব্যতিক্রম হবে না। সাদা-লাল শাড়ি, কুর্তা, পাঞ্জাবি ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অনেকেই শেষবারের মতো মণ্ডপ দর্শনে বের হবেন। বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি, পরিবারের সঙ্গে ছবি আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতি ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করবেন উৎসবের শেষ দিনটি।


পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসার প্রস্তুতি নিয়ে গৃহিণী অনন্যা রায় বলেন, দশমীতে মা চলে যাবেন ভাবতেই মনটা কেমন যেন ভারী হয়ে আসছে। তবে সকাল সকাল বাচ্চাদের আর শাশুড়িমা কে নিয়ে অলোকারমোড় ও সাহেববাজার মণ্ডপগুলো ঘুরে প্রতিমা দর্শন করব। মায়ের কাছে একটাই প্রার্থনা থাকবে, যেন সবার জীবনে শান্তি আর মঙ্গল ফিরে আসে।


উৎসবের শেষ দিনটিতে চিরাচরিত ঐতিহ্যবাহী পোশাকেই সেজে উঠবে তরুণ-তরুণীরা। দশমীর বিশেষ লুকে তরুণী ও গৃহবধূদের গায়ে শোভা পাবে লাল পেড়ে সাদা শাড়ি কিংবা জমকালো তাঁত-জামদানি, আর তরুণরা বেছে নেবে ট্র্যাডিশনাল কুর্তা কিংবা পাঞ্জাবি। মণ্ডপ প্রাঙ্গণে প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে কিংবা শহরের শান্ত অলিগলিতে বন্ধুদের নিয়ে দলবেঁধে সেলফি আর ফটোসেশনের হিড়িক পড়ে যাবে।


বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরির পরিকল্পনা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য্য সেন বলেন, পূজার পাঁচটা দিন কীভাবে কেটে গেল টেরই পেলাম না! দশমী শেষ দিন, তাই আমরা সব বন্ধুরা মিলে ঠিক করেছি ট্র্যাডিশনাল শাড়ি পরে বের হব। বিসর্জনের আগে হয়তো কুর্তি পড়তে পারি। তারপর শহরের মণ্ডপগুলো ঘুরে ছবি তুলব।


শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকা এক ভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়। মণ্ডপ প্রাঙ্গণে তৈরি করা হয় বর্ণিল তোরণ। বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। বিজয়া দশমীতে থাকে সরকারি ছুটি। এ বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বর্ধিত করে। শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সাথে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে। পূজাতে টানা ৫ দিনের এই ছুটি উৎসবের আনন্দ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।