মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সোনার দেশ ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৯ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৯ অপরাহ্ন
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

দূতাবাসের দায় এড়ানো যায় কি?

সৌদি প্রেস এজেন্সি দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানায়। এই খবরের ভিত্তিতেই ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানা যায়। এর আগে ওই দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, তদন্ত শেষে বিচার প্রক্রিয়ার বিষয় সম্পর্কে কোনোকিছুই জানা যায়নি। বলা হচ্ছে- মক্কার একটি মসজিদে দুই বাংলাদেশি নারী ও পুরুষ অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত হলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর বাংলাদেশে জানাজানি হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।


এই ধারা এখনো অব্যাহত আছে। দুই বাংলাদেশির বিচার ও রায় কার্যকরের তথ্য না জানার জন্য সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতাকে দায়ি করা হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর দূতাবাস সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত জানতে চিঠি দেয়া হয়েছে। ওই দুই বাংলাদেশির বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানানো হয়নি বলেই দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষোর দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। জেদ্দা ও রিয়াদে বাংলাদেশ মিশনে সহকারী আইন কর্মকর্তারা আছেন। যাদের কাজই হলো মামলার খোঁজ নেয়া। আদালতগুলোতে যাওয়া কিংবা বিভিন্ন কারাগারে গিয়ে খোঁজ নেয়া।


নিয়োগকর্তাকে হত্যা মামলার সৌদিতে প্রায় ৬ বছর কারাগারে বন্দি থাকার পর বিচারে বাংলাদেশি নরসিংদীর ছিদ্দিক মিয়ার শিরñেদের রায় ঘোষিত হয়েছিল। সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে তার শাস্তি মওকুফ হলে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন। অর্থাৎ এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া গেলে আলোচ্য দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ ছিল। 


দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে শোরগোল লেগে আছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায় নি। কর্তৃপক্ষের তথ্য পেলেই দুই বাংলাদেশির রায় কার্যকরের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে। ওই দুই বাংলাদেশির তথ্য সম্পর্কে না জানার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষের কোনো ব্যর্থতা আছে কি না সেটাও যাচাই করে দেখার প্রয়োজন আছে। সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করেন। তারা রেমিটেন্স পাঠানোর দিক থেকেও এগিয়ে আছেন। ওই শ্রমিকের নিরাপত্তা, তাদের সমস্যায় দূতাবাস ভরসা হয়ে কাজ করবে সেটাই প্রত্যাশিত। সে ব্যাপারেও স্পষ্ট ব্যাখ্যা বাংলাদেশের মানুষের জানার অধিকার আছে।