শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

শিশু নিখোঁজ, হত্যা ও অপহরণের ঘটনা বাড়ছে

সোনার দেশ ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২২ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২২ পূর্বাহ্ন
শিশু নিখোঁজ, হত্যা ও অপহরণের ঘটনা বাড়ছে

অসহনীয় পরিস্থিতির অবসান হোক

শিশুরা নিখোঁজ হচ্ছে, ধর্ষণ ও অপহরণের শিকার হচ্ছে- উদ্ধারও হচ্ছে। আবার নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধারের ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতি খুবই অস্বস্তিকর, উদ্বেগজনক- আতঙ্কের কারণ। এমন ঘটনা কমে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ বছর নিখোঁজ অনেক শিশুরই সন্ধান মিলেছে মৃত্যুর পর—কেউ মাটিচাপা অবস্থায়, কেউ নদী বা ডোবা কিংবা শস্যখেতে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে, এ  বছরের প্রথম ৮ মাসে নিখোঁজের পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও চলতি বছরে ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে হত্যার শিকার হয়েছে শিশুরা। এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো কোনো ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে পরিচিত ব্যক্তি বা স্বজনের দিকে।


সম্প্রতি অপহরণের পর পণ দাবির এক ভয়াবহ প্রতিবেদন সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। বান্দরবানের লামায় ১০ অক্টোবর স্কুলের রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে গিয়ে সপ্তম শ্রেণির তিন কিশোরী অপহৃত হয়েছে। তিনদিন পর নিখোঁজ তিন ছাত্রীর পরিবারকে বস্তাবন্দি ভিডিও পাঠিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট থানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই অপহরণের ঘটনা এলাকায় ব্যাপকভাবে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার কারণ হয়েছে। 


পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব মতেই এ বছরের প্রথম এ ৭ মাসে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু নিখোঁজের সংখ্যা ১৫ হাজার ২৪৩ জন। যদিও এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ শিশুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। 


হঠাৎ করে শিশু নিখোঁজের মত ঘটনার বাড়বাড়ন্ত কেন? বলা হচ্ছে- শিশুরা সাধারণত বিভিন্ন পারিবারিক, সামাজিক ও অপরাধমূলক কারণে নিখোঁজ হয়। অনেক ক্ষেত্রেই শিশুরা হত্যার শিকারও হচ্ছে। হত্যার মত ঘটনাগুলোর সুরাহা খুব কমই হচ্ছে। যা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকেই সামনে আনে। যদিও শিশু নিখোঁজের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে এবং তথ্য দ্রুত ছড়াতে দেশে ‘মন অ্যালার্ট’ ব্যবস্থা চালু হয়েছে।


শিশু নিখোঁজ, হত্যা ও অপহরণের ঘটনা সমাজের কদার্য প্রবণতাকেই তুলে ধরে। পরিস্থিতি ভিন্ন ভাবে বিশ্লেষণের নানা সুযোগ থাকতেই পারে। কিন্তু ঘটনাগুলো ঘটছে এবং শিশুদের নিরাপত্তা ইস্যুটি যে ক্রমেই ভঙ্গুর হয়ে আসছে সে বিষয়টি অধিক অনুধাবনের সুযোগ রয়েছে। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলা রাষ্ট্রের দায়। সমাজকে কীভাবে সচেতন ও সক্ষম করে তোলা যায়- সেটাও রাষ্ট্রকে বিবেচনায় নিতে হবে। কোনো অজুহাতেই পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। শিশুর প্রতি অপরাধ প্রবণতা সমাজকে ভাল কিছুর ইঙ্গিত দেয় না। অসহনীয় এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হোক।