বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল

সোনার দেশ ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৪ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৪ অপরাহ্ন
রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল

১০ চিকিৎসকে ৩০০ রোগী, এভাবে চলতে পারে না


রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সংকট দেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতারই প্রতিচ্ছবি। ১৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ রোগীর চাপ সামলাচ্ছেন মাত্র ১০ জন চিকিৎসক। এর মধ্যে একজন সিনিয়র কনসালট্যান্টের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতির অকার্যকারিতা, ওষুধের ঘাটতি ও পুরোনো ভবনের ঝুঁকি রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করছে। অথচ রাজশাহী বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ছাড়াও রংপুর ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকার রোগীরা এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল।


১৯৬৬ সালে যাত্রা শুরু করা হাসপাতালটির সেবার পরিধি বেড়েছে, বেড়েছে রোগীর চাপ; কিন্তু জনবল পরিকল্পনায় তার প্রতিফলন নেই। চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ল্যাবরেটরির অ্যানালাইজার মেশিনে ত্রুটির কারণে কয়েক মাস ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে বাইরে যেতে হলে রোগীদের বাড়তি অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হয়। তাই অচল যন্ত্রপাতি দ্রুত মেরামত এবং আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।


ওষুধের ঘাটতিও উদ্বেগজনক। প্রায় ৪৮ ধরনের ওষুধের তালিকা থাকলেও রোগীরা নিয়মিত পাচ্ছেন ২০ থেকে ২৫ ধরনের ওষুধ। ফলে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে গিয়ে আর্থিক চাপে পড়ছেন অনেকেই। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের যদি প্রয়োজনীয় ওষুধও বাইরে থেকে কিনতে হয়, তবে স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। চাহিদা অনুযায়ী ওষুধের মজুত ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।


এর সঙ্গে রয়েছে পুরোনো ভবনের নিরাপত্তাঝুঁকি। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটছে। কয়েক দফা সংস্কারের পরও সমস্যার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে, সাময়িক মেরামত যথেষ্ট নয়। নতুন মেডিকেল ভবন নির্মিত হয়ে থাকলে সেটি কার্যকরভাবে চালু করা, আর পুরোনো ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে যেন ভবনের ঝুঁকিতে না পড়েন, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।


এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। রোগীর চাপ বিবেচনায় চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্টের পদ বাড়ানো, শূন্য পদ পূরণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল রাখা এবং ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা কোনো অনুগ্রহ নয়, নাগরিকের অধিকার। ১০ জন চিকিৎসকের ওপর ৩০০ রোগীর চাপ দিয়ে একটি হাসপাতাল চালানো গেলেও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা যায় না। তাই আশ্বাস নয়, প্রয়োজন সময়বদ্ধ ও দৃশ্যমান উদ্যোগ। রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সংকট নিরসনে আর বিলম্ব নয়—রোগীদের স্বার্থেই এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।