বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

‘শুদ্ধ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিতের’ স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার পেয়েছে রাসিক

সোনার দেশ ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৭ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৭ অপরাহ্ন
‘শুদ্ধ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিতের’ স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার পেয়েছে রাসিক

সম্মাননা যখন নাগরিক সেবার আয়না


‘শুদ্ধ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিতের’ স্বীকৃতিস্বরূপ রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) বিশেষ সম্মাননা অর্জন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করা এবং তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাসিকের এই অর্জন স্বস্তির খবর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানাতেই হয়।

প্রশাসক সম্মাননাটি নগরবাসীকে উৎসর্গ করেছেন। বক্তব্যটি প্রশংসনীয়। কিন্তু উৎসর্গের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হবে বাস্তব সেবা। নাগরিক যেন জন্মনিবন্ধনের জন্য দালালের দ্বারস্থ না হয়, একটি ছোট সংশোধনের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে না হয়, তথ্যের ভুলের কারণে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় না পড়ে এবং মৃত্যু নিবন্ধনের মতো স্পর্শকাতর কাজেও যেন কোনো ধরনের হয়রানির মুখে না পড়ে—এটাই হওয়া উচিত এই পুরস্কারের প্রকৃত সার্থকতা।

আরেকটি বিষয়ও পরিষ্কার হওয়া দরকার। পুরস্কার মানে ছাড়পত্র নয়, বরং দায়িত্ব আরও বেড়ে যাওয়া। আজ যে প্রতিষ্ঠানটি ভালো কাজের স্বীকৃতি পেয়েছে, আগামীকাল সেই প্রতিষ্ঠানকেই আরও ভালো করতে হবে। সেবার মান ধরে রাখতে হবে, ভুল কমাতে হবে এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। কারণ পুরস্কার পাওয়ার পর একটি ভুলও আগের চেয়ে বেশি দৃশ্যমান হবে।

রাসিক প্রশাসক নগরীকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, আধুনিক, বাসযোগ্য, নিরাপদ ও শান্তির মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। এ প্রত্যাশার সঙ্গে নগরবাসীরও দ্বিমত নেই। কিন্তু বড় বড় প্রকল্প, দৃষ্টিনন্দন গেট, পার্ক কিংবা সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকের ছোট ছোট ভোগান্তি দূর করাই হতে পারে বড় প্রশাসনিক সাফল্য।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান হয়েছে—ভালো কথা। যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এটিও স্বাগত। কিন্তু অভিযান যেন একদিনের প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ না থাকে। ফুটপাত আবার দখল হলে, যানবাহনে আবার বিশৃঙ্খলা ফিরলে, নাগরিক সেবা আবার ধীরগতির হলে—তাহলে পুরস্কার আর বাস্তবতার মধ্যে ফারাক তৈরি হবে। রাজশাহীবাসী এখন আর শুধু আশ্বাস শুনতে চায় না। তারা দেখতে চায়—সেবা কতটা সহজ হলো, সময় কতটা কমল, হয়রানি কতটা কমল এবং জবাবদিহি কতটা বাড়ল।

সুতরাং রাসিকের এই সম্মাননা উদযাপনের পাশাপাশি একটি অঙ্গীকারেরও মুহূর্ত। ক্রেস্টটি যেন কেবল আলমারিতে সাজানো না থাকে; বরং প্রতিদিনের নাগরিক সেবায় তার প্রতিফলন দেখা যায়। কারণ শেষ বিচারে পুরস্কার দেয় সরকার, কিন্তু সাফল্যের সার্টিফিকেট দেয় জনগণ। আর সেই সার্টিফিকেট পেতে হলে রাসিককে এখন থেকেই প্রমাণ করতে হবে—এই সম্মাননা কাগজে নয়, নাগরিকের জীবনে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে।