বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

রাষ্ট্রাযত্ত চিনিকলে লোকসানের বোঝা

সোনার দেশ ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৫ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৫ অপরাহ্ন
রাষ্ট্রাযত্ত চিনিকলে লোকসানের বোঝা

বায়ো প্রডাক্ট লোকসান মুক্তির উপায় বটে-

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে করোত্তর লোকসান হয়েছে প্রায় ৪৭৭ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এই লোকসান ছিল প্রায় ৫৫৫ কোটি টাকা।


সে হিসাবে এক বছরে লোকসান প্রায় ৭৮ কোটি টাকা কমেছে। তবে এই হিসাবে ব্যাংক ঋণের সুদ বাদ দিয়ে হিসাব করলে লোকসান কমেনি। বরং লোকসান প্রায় ২৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে সাড়ে ৪৩ কোটি টাকা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এই হিসাব উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রতিটি কলকারখানার বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আলোচনা হয়।


 দেশে ১৫টি  চিনিকলের মধ্যে কুষ্টিয়ার কেরু অ্যান্ড কোম্পানির হিসাব আলাদা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল প্রায় ৫৮০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং ব্যয় প্রায় ৩৫৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। করোত্তর লাভ দেখানো হয়েছে প্রায় ১৬৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ব্যাংক ঋণের সুদ বাদ দিয়ে করা হিসাবে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির লাভ প্রায় ২০৪ কোটি ৪ লাখ টাকা। এই প্রতিষ্ঠাটির লাভ করার কবারণের সাথে দেশের আরসব চিনিকল লাভজনক করার বিকল্পটি নিহিত আছে। সেটা হলো-বায়ো প্রডাক্ট। কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনিকলও লোকসানি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বায়ো প্রডাক্টের কারণে লাভজনক হয়ে আসছে চিনিতে লোকসান হলেও অন্য প্রডাক্টে প্রপতিষ্ঠানটি লাভ করছে। সব মিলে লাভের পাল্লাটিই ভারি থাকছে। 


স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লোকসানে থাকা চিনিকলে উৎপাদিত চিনি ছাড়া অন্যান্য দ্রব্য দিয়ে ‘বায়ো প্রডাক্ট’ তৈরি করে কীভাবে চিনিকলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায়, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আগামী বৈঠকে ওই প্রতিবেদন উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে কমিটি। যদিও বায়ো প্রডাক্টের কথা বহু আগে থেকেই বলা হচ্ছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি গুরুত্ব পায় নি।  


আখ চাষ একটি পরিবেশবান্ধব সি-৪ উদ্ভিদ। এটি ধানের চেয়ে চার গুণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং সমপরিমাণে অক্সিজেন ত্যাগ করে বায়ুমণ্ডলের বাতাসকে বিশুদ্ধ রাখে। আখের শুকনা পাতা ঘর ছাউয়া, কাঁচা পাতা পশুর খাবার, মুথা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মূলত আখ এমনই একটি উদ্ভিদ তার সবটুকুই ব্যবহারযোগ্য। চিনিকলের উপজাত হিসেবে আখের ছোবড়া ও মোলাসিস বায়ো প্রডাক্টের উপকরণ হিসেবে ব্যহারযোগ্য। কিন্তু কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠানে বায়ো প্রডাক্ট নেই। চিনিকলগুলোকে লোকসানমুক্ত করতে বায়ো প্রডাক্টকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। 


চিনিকলগুলোকে লাভজনক করতে মানসম্মত আখের উৎপাদনেও যেতে হবে। ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে বটে কিন্তু এক্ষেত্রে তাদের উল্লেখযোগ্য অবদান নেই। দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে আখ থেকে চিনি আহরণের গড় হার প্রায় ৬ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০০ কেজি আখ থেকে প্রায় ৬ কেজি চিনি পাওয়া যায়। অথচ ভারতে এই হার ১০ থেকে ১২ শতাংশ। বাংলাদেশের চিনিশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আখ থেকে চিনি আহরণের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এর জন্য উন্নত জাতের আখচাষের ওপর গুরুত্বরোপ করতে হবে।