বারোমাসি আমে নতুন সম্ভাবনা
চাই পরিকল্পিত সম্প্রসারণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। তবে মৌসুম শেষ হলেই উৎপাদন ও বেচাকেনার গতি কমে যেত। বারোমাসি কাটিমন, বারি আম-২০ ও অন্যান্য নাবি জাতের আম সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। কানসাট ও গোমস্তাপুরের বোয়ালিয়া বাজারে মৌসুমের বাইরেও আমের বেচাকেনা কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বাড়ছে কৃষকের আয়, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ।
মৌসুমের বাইরে আম উৎপাদন কৃষকের আয়ের নতুন পথ খুলেছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আম যাচ্ছে, বাড়ছে অনলাইন বিক্রিও। তবে বর্তমানের উচ্চমূল্য ভবিষ্যতেও থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অতিরিক্ত উৎপাদন কিংবা চাহিদা কমে গেলে দাম পড়ে কৃষক লোকসানে পড়তে পারেন। তাই বাজারের চাহিদা যাচাই, উপযুক্ত জাত নির্বাচন এবং উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা করে চাষের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু বেশি দামের আশায় প্রচলিত জাতের বাগান নির্বিচারে বদলে ফেলা ঠিক হবে না।
রপ্তানির ক্ষেত্রেও সম্ভাবনার পাশাপাশি প্রস্তুতি জরুরি। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে নিরাপদ উৎপাদন, কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার, মান নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ, আধুনিক প্যাকেজিং ও উন্নত পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ বাজার টেকসই করা কঠিন।
আমকে ঘিরে গ্রামীণ নারী ও তরুণদের বাছাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও অনলাইন বিপণনে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজারের স্বচ্ছতা, সংরক্ষণসুবিধা ও সম্মিলিত বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম শুধু ফল নয়, এ অঞ্চলের পরিচয় ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বারোমাসি আম সেই অর্থনীতিকে সারা বছর সচল রাখার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মান, বাজার, কৃষকের ন্যায্য আয় ও পরিবেশের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগই পারে এ সম্ভাবনাকে স্থায়ী সাফল্যে রূপ দিতে।