বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের নির্মাণ শেষ, তিন বছরেও শুরু হয়নি ব্যবহার

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ন
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের নির্মাণ শেষ, তিন বছরেও শুরু হয়নি ব্যবহার

সাত তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। সেই অনুযায়ী তৈরি হয়েছিল নকশাও। ভবনের তৃতীয় তলায় থাকার কথা ছিল রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় এবং পরিচালকের জন্য নির্ধারিত বসার কক্ষ। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা জটিলতা ও বরাদ্দসংকটে শেষ পর্যন্ত সাত তলার পরিবর্তে অনুমোদন মেলে তিন তলা ভবনের। এরপরও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র দুই তলা। আর সেই দুই তলা ভবনেও নেই বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের বসার কক্ষ। ফলে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় তিন বছর পরও ব্যবহার শুরু হয়নি রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের নতুন ভবন।


এদিকে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে পুরোনো ভবনে ভাড়া বা বিকল্প স্থাপনায় কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের জন্য একটি আধুনিক ও স্থায়ী বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সাত তলা ভবনের পরিকল্পনা করা হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবনের নকশাও প্রস্তুত করা হয়েছিল।


পরিকল্পিত ভবনে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের জন্য আলাদা কক্ষ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক কক্ষ, সভাকক্ষসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধা রাখার কথা ছিল। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে নানা জটিলতা দেখা দেয়। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে না যাওয়ায় একপর্যায়ে ভবনের উচ্চতা ও অনুমোদন নিয়েও পরিবর্তন আসে।


সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষের দিকে এসে সাত তলা ভবনের পরিবর্তে তিন তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় তিন তলা ভবনও নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত সাত তলা ভবনের জন্য তৈরি করা ফাউন্ডেশনের ওপর মাত্র দুই তলা নির্মাণ করেই কাজ শেষ করা হয়।


ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও সেটি চালু না হওয়ার পেছনে দেখা দিয়েছে আরেক জটিলতা। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের জন্য নির্ধারিত কক্ষ রাখার কথা থাকলেও নির্মিত দুই তলা ভবনে পরিচালকের বসার জন্য কোনো কক্ষ নেই। ফলে ভবনটি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।


নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকে ভবনটির বিভিন্ন কক্ষ ও প্রবেশপথ তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে ভবনটি সম্পূর্ণ ও ব্যবহার উপযোগী মনে হলেও বাস্তবে সেখানে নিয়মিত কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে না। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।


এদিকে একদিকে নতুন ভবন অব্যবহৃত পড়ে থাকলেও অন্যদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের কার্যক্রম চলছে অন্য একটি ভবনে। বর্তমানে বিভাগীয় মেডিকেল সাব-ডিপোর ভবনে বসেই দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত নতুন স্থাপনা ব্যবহারের বাইরে থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম চালাতে বিকল্প স্থাপনা ব্যবহার করতে হচ্ছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, একটি সরকারি কার্যালয়ের ভবন নির্মাণের আগে সেখানে কতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করবেন, কী ধরনের কক্ষ প্রয়োজন, ভবিষ্যতে জনবল ও কার্যক্রম বাড়ার সম্ভাবনা এবং ভবনের ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা হবে-এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অনুমোদিত নকশা, প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় থাকাও জরুরি।


তার মতে, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের নতুন ভবনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শুরুতে সাত তলা ভবনের পরিকল্পনা ও নকশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র দুই তলা। আবার নির্মিত ভবনেও কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তার জন্য নির্ধারিত কক্ষ না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।


এ বিষয়ে ভবন নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের প্রতিনিধি রওশন কামাল তারেক বলেন, ভবন নির্মাণের সময় যে নকশা ও অনুমোদন ছিল, সে অনুযায়ীই কাজ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বরাদ্দ ও অনুমোদনের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়।


রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন ভবন নির্মাণ হলেও নকশা আমাদের কাছে নেই। সমস্যা হলো, নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় পরিচালকের বসার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থাকার কথা ছিল। কিন্তু ভবন হয়েছে দুই তলা। ভবনটি এখনও আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।


তিনি আরও বলেন, পুরো ভবনটি চালুর জন্য এই ভবনটি কমপক্ষে চারতলা হওয়া প্রয়োজন কিন্তু সেই আলোকে হয়নি। এটির পুরো নকশা বা ডিজাইন হাতে পেলে আমরা বলতে পারবো আসলে কিভাবে কি হয়েছে।


স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী নওরোজ মো. তারেক বলেন, ভবনটি যে পরিকল্পনা ও অনুমোদন পাওয়া গিয়েছিল, সে অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এটা ঠিক যে চাহিদা সাত তলায় ছিল কিন্তু আমি শেষ করতে পারবো না-তাই আমরা যতটুকু পারবো ঠিক ততটুকুই মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েই আমরা কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে।