উপজেলা বিএনপির কমিটিতে ৬ সরকারি চাকরিজীবী, প্রধান শিক্ষক বললেন ‘চাকরি ছেড়ে দেব’
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে দুই প্রধান শিক্ষকসহ ছয় সরকারি চাকরিজীবীকে পদ দেওয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাদের উপেক্ষা করে সরকারি চাকরিজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে, যা সরকারি চাকরিবিধি ও দলীয় গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মঙ্গলবার রাতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান ও সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদের যৌথ স্বাক্ষরে ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির ২০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপজেলার রোশন শিমুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুজ্জামান হাসুকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে পূর্ব কুরুষা ফিরুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মুকুলকে। এ ছাড়া পশ্চিম কবির মামুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেন, যতীন্দ্র নারায়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সরকারি সাইফুর রহমান কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক শাহিনুর রহমান ও অগ্রণী ব্যাংকের ফুলবাড়ী শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা তহিদুল হককে কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ২৫(১) অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দল বা এর সহযোগী সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না।
কমিটির প্রধান দুই পদসহ ছয়টি পদে সরকারি চাকরিজীবীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে সমালোচনা চলছে। নেতা-কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, এ নিয়ে সরকারি দায়িত্ব পালনে জটিলতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
ঘোষিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান বলেন, ‘দলীয় গঠনতন্ত্র ও সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে ছয়জনকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। দুঃসময়ে রাজপথে তাঁদের কোনো ভূমিকা ছিল না। এই কমিটি নেতা-কর্মীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। মূলত জেলা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের আশীর্বাদপুষ্টদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।’
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হাসু বলেন, ‘আমি ও আমার সদস্যসচিব চাকরি ছেড়ে দেব। আপনারা চিন্তা করবেন না। আগামীকাল চাকরিতে ইস্তফা দেওয়ার কাগজ পেয়ে যাবেন।’
তবে সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান মুকুল তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। আজ বুধবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলব।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এখনো কাগজপত্র পাইনি। সরকারি শিক্ষকদের রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। সত্যতা পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য তহিদুল হক অগ্রণী ব্যাংকে কর্মরত থাকার পাশাপাশি দলীয় পদে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা না বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।
অগ্রণী ব্যাংকের কুড়িগ্রাম অঞ্চলপ্রধান আহসান হাবিব সরকার বলেন, প্রবিধান অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী রাজনৈতিক দল কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত থাকতে পারবেন না। তহিদুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা অনলাইন