রাজশাহী কলেজে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করল ছাত্রদল কর্মী
রাজশাহী কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে দুই রুমমেটের দ্বন্দ্বের জেরে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শাহাবুর হোসেন জয় (২৪) নামের ওই শিক্ষার্থী। তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালের দিকে ছাত্রাবাসের ‘বি’ ব্লকের ১০৬ নম্বর কক্ষে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। তবে এ ঘটনায় সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল।
আহত শাহাবুর হোসেন জয় রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ফজলে রাব্বী ওহী ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারা দুজনই ওই কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জয় অভিযোগ করেন, ছাত্রাবাসে ওঠার পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাব্বীর সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। বুধবার সকালে রাব্বী এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ জানালে রাব্বী তার মাথায় আঘাত করেন। এসময় দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসে তাদের শান্ত করেন।
জয়ের দাবি, ঘটনার প্রায় ৩৫ মিনিট পর রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের কর্মী প্রীতম সেখানে এসে কোনো কথা না শুনেই তার ওপর চড়াও হন। পরে প্রীতমের সঙ্গে আরও কয়েকজন যোগ দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন এবং টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান।
অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ফজলে রাব্বী ওহী বলেন, আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলব না।
এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুই রুমমেটের নিজস্ব ঝামেলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রদলের নাম জড়ানো হচ্ছে। একটি পক্ষ সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই চক্রান্ত করছে। তবে আমরাও চাই প্রকৃত দোষীদের তদন্তের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হোক।
মুসলিম ছাত্রাবাসের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা নাসিরুল আজম বলেন, ‘দুই সাধারণ শিক্ষার্থীর ঝগড়াকে তৃতীয় পক্ষ এসে ঘোলাটে করেছে। এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’