বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি: আয়াস-রিমির জামিন শুনানিতে হাতাহাতি

সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৫ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৫ অপরাহ্ন
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি: আয়াস-রিমির জামিন শুনানিতে হাতাহাতি

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমির জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আয়াসের হয়ে কথা বলা এক আইনজীবীকে মারধর করেন কয়েকজন আইনজীবী।


আসামিদের জামিনের পক্ষে-বিপক্ষে আইনজীবীদের বক্তব্যের একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান বিচারক। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে আবার এজলাসে ফিরে আল নূর মোহাম্মদ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমির জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসানের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। রিমান্ড শেষে এ দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল গাফফার হিমেল। অন্যদিকে, আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ।


আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জামিন শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের একপর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মহসিন তৌহিদ আপত্তি জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় তার শার্ট টেনে ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন।


কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হলে আবার এজলাসে ফেরেন বিচারক। এরপর সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে আল নূর মোহাম্মদ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাদের হাজতখানায় নেওয়া হয়।


গত ১১ অক্টোবর রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমিকে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত। আয়াসের তিন দিন এবং রিমির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। একই মামলায় মো. সাকিবুল হাসান ও মো. সুজন মিয়াকেও যথাক্রমে তিন ও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার সাকিবুল হাসান ও সুজন মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়।


বুধবার আয়াস ও রিমিকে আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে। তাদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই এবং মামলার তদন্তের স্বার্থে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। তদন্তের প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে তাদের আবারও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।


শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন। তার বক্তব্যের একপর্যায়ে আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।


তবে আদালতের জামিন নামঞ্জুরের আদেশকে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মামলাটি এখনো বিচারাধীন।


মামলার সূত্রপাত গত ১০ অক্টোবর। সেদিন সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা করেন আয়াসসহ একদল তরুণ। এ সময় পুলিশের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা হয়। ঘটনাস্থলে এক নারীকে দেয়ালচিত্রে কালো রং লাগাতে দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আয়াসসহ চারজনকে থানায় নেওয়া হয়।


এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক জিয়াউল হক বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনো বাকি।


পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছিল, আয়াস পাকিস্তানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর কবর ও নামফলক নিয়ে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে, রিমি ভারতীয় আগ্রাসন এবং রবীন্দ্রনাথের জমিদারি আমলে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে দেয়ালচিত্রে কালো রং লাগান বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা, পরিকল্পনা ও অর্থায়নের উৎস শনাক্ত করতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছিল পুলিশ।


সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়। এসব প্রতিকৃতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলার পর সেগুলো মোছার উদ্যোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়।


সেই বিতর্কের মধ্যেই রবীন্দ্রনাথের দেয়ালচিত্রে কালি দেওয়ার ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এখন মামলার তদন্ত চলছে, একই সঙ্গে আদালতে শুরু হয়েছে বিচারিক কার্যক্রম।


তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ