রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধকে আধুনিক পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি বলেছেন, রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধটি কেবল বাঁধ হিসেবেই থাকবে না, বরং এটিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সিঙ্গাপুর ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশের আধুনিক নদী ও পানি ব্যবস্থাপনার আদলে এখানে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বিনোদনমূলক সুবিধা সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বারনই নদী, গোদাগাড়ী পৌরসভায় পদ্মা নদী ভাঙন কবলিত এলাকা, শহর রক্ষা বাঁধ ও টি-বাঁধ পরিদর্শন এবং রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যানে বৃক্ষরোপণ শেষে দুপুরে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সকালে প্রতিমন্ত্রী বারনই নদী পরিদর্শন করেন। এ নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও পানি দূষণ প্রতিরোধে কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজশাহী ও নাটোর জেলার অন্তর্গত বারনই নদী পুনরুজ্জীবিত, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্ত করা হবে। বারনই নদী খনন প্রকল্প ইতোমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। নদীটির একাধিক প্যাকেজের টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে কাজ চলমান রয়েছে এবং বাকিগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য বা দূষিত পানি পড়ে যেন বারনই নদী দূষিত না হয় এবং এই পানি পদ্মায় গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। দূষিত পানির কারণে স্থানীয় মানুষের হাত ও পায়ে ঘা হওয়ার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, এই দূষণ প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের সাথে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নদীর পানি বিশুদ্ধ রাখতে প্রয়োজনে ইটিপি স্থাপন করা হবে।
বারনই নদী পরিদর্শন শেষে ফরহাদ হোসেন গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকায় পদ্মা নদীভাঙন এলাকা দেখতে যান। এসময় তিনি নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং রাজশাহীর সার্বিক পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও শহর রক্ষা বাঁধ সংক্রান্ত উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্রুতই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
এরপর প্রতিমন্ত্রী শহর রক্ষা বাঁধ ও টি-বাঁধ পরিদর্শন করেন এবং রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যানে একটি কাঠগোলাপের চারা রোপণ করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন। অন্যান্যের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাধারণ মানুষ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।