শিশুদের খাবারেই স্বাস্থ্যঝুঁকি
দায় নেবে কে?
শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু করা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। গত ছয় মাসে জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাবার খেয়ে একাধিকবার শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে। সর্বশেষ ১ অক্টোবর শিবগঞ্জের লহলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। এর আগে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে একই ধরনের ঘটনায় আরও বহু শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। শিশুদের জন্য নেওয়া কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উদ্বেগের বিষয়, নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগে জরিমানা, মামলা ও তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার পরও ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ হচ্ছে না। পাউরুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দুই দফায় মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্য ঘটনায় খাবার সরবরাহকারী সংস্থাকেও জরিমানা করা হয়। এরপরও যদি একই অভিযোগ সামনে আসে, তবে এসব ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—সে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। শুধু জরিমানা বা মামলা নয়, অনিয়মের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।
জেলার চারটি উপজেলার ৬১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় এক লাখ ২৯ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন খাবার সরবরাহ করা হয়। এত বড় কর্মসূচিতে মান নিয়ন্ত্রণে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। খাবার সরবরাহের আগে মান যাচাই, সংরক্ষণ ও পরিবহনপ্রক্রিয়া তদারকি এবং বিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তদন্তের ফল প্রকাশ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে বারবার অনিয়ম করা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে হবে।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উদ্দেশ্য শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলা নয়। তাই এ বিষয়ে দায়সারা তদারকি কিংবা কাগুজে আশ্বাস গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে অভিভাবকদের উদ্বেগ দূর হয় এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার পায়। শিশুদের স্বাস্থ্যের প্রশ্নে কোনো আপস নয়—স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে চাই কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি।