পবায় পাওনা টাকা চাওয়ায় দোকানে এসে মারধর, মামলা দায়ের না করে জিডি
রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটায় ব্যবসার পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ফিড ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর মামলা না করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে মারধরের অভিযোগের পর কেন জিডি করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। চিকিৎসার কাগজপত্র ও মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর নাম বেলাল উদ্দিন (৪৯)। তিনি পবা উপজেলার পূর্ব পুঠিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নওহাটা সেতুর উত্তর পাশে তাঁর ফিডের দোকান রয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, মো. বাবলু হোসেনের কাছে ফিড বিক্রির পাওনা টাকা চাইতে গেলে মো. বাবলু ও তাঁর ভাই বুলবুল হোসেন তাঁকে মারধর করেন। বেলাল উদ্দিনের দাবি, বাবলু হোসেন বিভিন্ন সময়ে তাঁর দোকান থেকে বাকিতে ফিড কিনেছেন। এ বাবদ তাঁর কাছে ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯০ টাকা পাওনা রয়েছে। গত ১২ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে বাবলু ও বুলবুল তাঁর দোকানে এলে তিনি পাওনা টাকা চান। তখন তাঁরা তাঁকে গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে ইটের টুকরা ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তিনি রক্ষা পান বলে অভিযোগ করেন। বেলাল উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাঁর ভাষ্য, পাওনা টাকার লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে দোকানের মেমো ও সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে।
১৩ অক্টোবর পবা থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে বেলাল উদ্দিন উল্লেখ করেন, বাবলু ও বুলবুল তাঁকে মারধর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। জিডিতে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে দুজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
বাবলু হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বেলাল উদ্দিনের কাছে টাকা পাওনার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে বেলালের দাবির চেয়ে কম টাকা পাওনা বলে জানান। বাবলুর ভাষ্য, বেলাল তাঁর কাছে প্রায় ৯ লাখ টাকার একটি মেমো দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ওই মেমোতে উল্লেখিত পণ্যের মূল্য পরিশোধ করেছেন এবং বেলালের কাছে অল্প কিছু টাকা বাকি থাকতে পারে। তবে ঠিক কত টাকা বাকি, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বাবলু বলেন, দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ রয়েছে। সেটি দেখে ঘটনার প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে। তাঁর দাবি, বেলালই প্রথম তাঁকে ধাক্কা দেন, পরে তিনি ধাক্কা দেন।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন। মারধরের ঘটনায় বেলাল উদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও মেডিকেল প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। সেগুলো পাওয়ার পর আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
ওসি বলেন, আঘাতের ধরন ও গুরুতরতার ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। হালকা আঘাতের ক্ষেত্রে জিডি এবং গুরুতর আঘাত বা অঙ্গহানির ক্ষেত্রে মামলা হতে পারে।
তবে বেলাল উদ্দিনের অভিযোগের পর কেন সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে, সে বিষয়ে ওসির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।