বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

মোহনপুরে ৬ ফুট রাস্তার দাবি, সেনাসদস্যের জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধের অভিযোগ

কেশরহাট প্রতিনিধি ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
কেশরহাট প্রতিনিধি ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫৬ অপরাহ্ন
মোহনপুরে ৬ ফুট রাস্তার দাবি, সেনাসদস্যের জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধের অভিযোগ

রাজশাহীর মোহনপুরে রাস্তার দাবি তুলে এক সেনাসদস্যের পৈতৃক জমিতে প্রাচীর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমির সীমানা থেকে চার ফুট জায়গা ছেড়ে রাস্তা রাখার পরও ছয় ফুট রাস্তার দাবিতে লোকজন নিয়ে এসে নির্মাণকাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ছয় ফুট রাস্তার দাবি জানানোর কথা বলেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা।


বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটী ইউনিয়নের হাটরা গ্রামের উষায়ের হাটরা-মুকিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের অভিযোগ, নিজস্ব জমির সীমানা থেকে চার ফুট জায়গা ছেড়ে প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছিলেন সেনাসদস্য শরিফুল ইসলাম। এ সময় মুকিমপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ও রায়ঘাটী ইউনিয়ন যুবদলের নেতা আফজাল হোসেন রতন লোকজন নিয়ে এসে কাজে বাধা দেন এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।


ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ নিয়ে এর আগেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। গত ৮ জুন ওই জমিতে নির্মাণকাজ চলার সময় রতন লোকজন নিয়ে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সেনাসদস্য শরিফুল ইসলাম গত ১০ জুন মোহনপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে শহিদুল ইসলাম, বাবুল হোসেন, রতন হোসেন, আলমগীর, আবু সাঈদ, সেফাতুল্লাহ, মুনতাজ আলী, শফিউল ইসলাম, আব্দুল খালেক ওরফে মোনারুল, মোনারুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


সেনাসদস্য শরিফুল ইসলাম বলেন, তিনি নিজের বৈধ মালিকানাধীন জমিতে আইনসম্মতভাবে নির্মাণকাজ করতে চান। মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে জমির এক পাশ দিয়ে পুরো রাস্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। এরপরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিজের জমিতে নির্বিঘ্নে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন এই সেনাসদস্য।


এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, জমির মালিকেরা চলাচলের জন্য চার ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন। এরপরও ফসলি জমির মধ্য দিয়ে আরও প্রশস্ত রাস্তার দাবি তুলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া অযৌক্তিক। তাঁদের মতে, রাস্তার প্রয়োজন থাকলে তা নিয়ে আলোচনা ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা আফজাল হোসেন রতন বলেন, তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ সাধারণ মানুষ হিসেবে রাস্তার দাবি নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। জমির মালিকেরা চার ফুট রাস্তা রাখতে চাইলেও তাঁরা ছয় ফুট রাস্তার দাবি জানিয়েছেন।