শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বেচবো মুরগি, কিনবো বই, লাগাবো গাছ-করবো মানুষের সেবা

WP Import ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
WP Import ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
বেচবো মুরগি, কিনবো বই, লাগাবো গাছ-করবো মানুষের সেবা
বেচবো মুরগি, কিনবো বই, লাগাবো গাছ-করবো মানুষের সেবা


শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদাতা:


‘বেচবো মুরগি, কিনবো বই, লাগাবো গাছ-করবো মানুষের সেবা’Ñ এ শ্লোগানকে সামনে রেখেই কানসাট সোলায়মান ডিগ্রি কলেজের বিএ ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ২২ বছরের যুবক নাহিদ নিভৃত পল্লীতে গড়ে তুলেছেন শান্তি নিবিড় পাঠাগার, লাগিয়েছে সহস্রাধীন গাছ ও সুস্থ করেছেন শতাধিক অসহায় রোগী। যা বর্তমানে শত শত পাঠক ও শিক্ষার্থীর তীর্থ স্থানে পরিণত হয়েছে।

জ্ঞানের আলোা ছড়াচ্ছে নাহিদের এর শান্তি নিবিড় পাঠাগার। ২০১৪ সালের নাহিদ উজ্জ জামান সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়াইয়ের সময় তিনি অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো ও রাস্তার পাশে গাছ লাগানো প্রতিশ্রুতি স্বরুপ তার কাজ করা।

বাবার সহযোগিতায় মুরগির ফার্ম থেকে অর্জিত টাকা দিযে নিভুত পল্লীর মানুষকে বইমুখী করতে ২০২০ সালে শিবগঞ্জ পৌরসভাধীন ইসরাইল মোড়ে নিজ বাড়ির বৈঠকখানায় সামান্য কিছু বই কিনে পাঠাগারের কার্যক্রম ও প্রচারণা শুরু করেন।দুই ভাইয়ের মধ্যে নাহিদ উজ্জ জামান ছোট। বাবা নজরুল ইসলাম ব্যবসায়ী আর মা নিলুফা ইয়াসমীন গৃহিণী। শিক্ষক ও বাবার অনুপ্রেরণায় দরিদ্র শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কিনে দেন গাইড বই ও স্কুলব্যাগ।

ধীরে ধীরে তাঁর এই কার্যক্রম ছাড়িয়ে যায় নিজ জেলায়। পর্যায়ক্রমে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলার গরিব শিক্ষার্থীর জন্য নিজ খরচে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ও নিজ উপজেলায় নিজে সরাসরি যোগাযোগ করে শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষা উপকরণ পৌঁছে দেন। বর্তমানে পাঠাগারটিতে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, শিশু সাহিত্যসহ সাত হাজারেরও বেশি বই আছে।

দৈনিক প্রায় ১০০ জন পাঠক এসে লাইব্রেরিতে বই পড়েন। নিবন্ধিত সদস্য আছে প্রায় তিনশো। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পাঠক বই নিতে এলে খাতায় নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে বইও খাতা নিতে পারেন। বেশি বই পড়ুয়া পাঠকদের দেন গাছের চারা উপহার। প্রতিমাসে আয়োজন করেন পাঠচক্রের।জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য আবেদন করা আছে বলে জানান নাহিদ উজ্জ জামান।

সপ্তাহের সাত দিনই দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে পাঠাগারটি।সামাজিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্লাড ডোনেট, ফাউন্ডেশন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য বিভাগ থেকে ও এনজিএফবি অ্যাক্সিলেন্স সাকসেস অ্যাওযাড ২০২৫সহ বিভিন্ন সংগঠন তাকে স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা দিযেছে।

নাহিদের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, নাহিদউজ্জামান মুরগির ব্যবসা করে নিজের আয়ের টাকা দিয়ে সেবামূলক কাজ করতে আমি সব সময় উৎসাহ দিই।’শিবগঞ্জ কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক আফরোজা নাসরিন, কানসাট সোলেয়মান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, বিনোদপুর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রুহুল আমিন, দৈনিক ইত্তেফারের জেলা প্রতিনিধি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা তসলিম উদ্দিন, একুশের পদকপ্রাপ্ত জিয়াউর রহমান ঘোষ, সাদা মনের শিক্ষক আব্দুর রশিদ ও খ্যাতনামা বৃক্ষপ্রেমিক সাদা মনের মানুষ কার্তিক প্রামানিক সহ বিজ্ঞ ব্যক্তিরা জানান, ‘বেচি মুরগি কিনি বই’ নামে পরিচিত ‘নাহিদ উজ্জ জামান শিবগঞ্জ উপজেলার সবার প্রিয় একজন আলোকিত মানুষ।

তার এ কাজগুলি মাইলফলক হযে থাকবে এবং মানুষকে সচেতন হতে সহায়ক হবে। নাহিদ উজ্জ জামান ইতিমধ্যে পরিবেশ বান্ধব ও রক্ষক হিসাবে উপজেলার শতাধিক শিক্ষা, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সহ বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, উৎকৃষ্ট কাঠ মেহগণি, শিশু, সেগুন, বট,পাইকর,নিম, ঔষধি গাছ,সহ ৫০ প্রজাতির তিন হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন এবং এ কার্যাক্রম এখনো অব্যাহত আছে।

, অন্যদিকেও নাহিদ উজ্জ জামান মানব সেবায় পিছিযে নেই। তিনি দীর্ঘ ছয় বছর যাবত প্রায় এক শ অসহায় রোগীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।এলাকার রুখসান আলি জানান আমি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিলাম না। নাহিদ উ্জ্জ জামান সংবাদ পেয়ে নিজ উদ্যোগে ও খরছে আমাকে সুস্থ করে তুলেছেন। শুধু আমিই নয়,এ ধরনের অনেক রোগীর চিকিৎসাব ব্যবস্থা করেছেন।