শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক সোনালী ও তার সন্তানকে ভারতে ফেরত।

WP Import ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
WP Import ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক সোনালী ও তার সন্তানকে ভারতে ফেরত।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক সোনালী ও তার সন্তানকে ভারতে ফেরত।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেপ্তার হওয়া অন্তঃসত্ত্বা ভারতীয় নাগরিক সোনালী খাতুনও তার সন্তান সাব্বির শেখকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তাদের ভারতে পাঠানো হয়। তবে একই সঙ্গে গ্রেপ্তার অপর চারজনকে গ্রহন করেনি বিএসএফ।

বিজিবির ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোনালী খাতুন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার পাকুরের বাসিন্দা এবং দানিশ শেখের স্ত্রী।

বিজিবি অধিনায়ক বলেন, সোনামসজিদ আইসিপিতে আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সোনালী খাতুন ও তার ৮ বছরের সন্তান মোঃ সাব্বির শেখকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় বিএসএফের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

অন্তঃসত্তা নারী ও শিশুকে পুশইন করায় সৃষ্ট মানবিক ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নজরে আসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি সদর দপ্তরের। এরপর কূটনৈতিক পর্যায়ে নিবিড় যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে উভয় দেশের সম্মতিতে ভারতীয় নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ তাদেরকে সসম্মানে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হলো।

তবে প্রতিশ্রতি দিলেও সোনালী খাতুনের স্বামী দানিশশেখসহ (২৮) একই এলাকার সুইটি বিবি (৩৩) ও তার দুইসন্তান, মো. কুরবান দেওয়ান (১৬) ও মো. ইমাম দেওয়ানকে (৬) গ্রহন করেনি বিএসএফ। সোনালী খাতুন ও সাব্বিরকে নিয়ে যাওয়ার পর বিএসএফ জানায় কিছুক্ষণের মধ্যেই বাকী চারজনকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। কিন্তু বিজিবি এক ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করলেও বিএসএফ কর্মকর্তারা বাকীদের ফিরিয়ে নিতে আসেন নি।

এরআগে গত সোমবার সোনালীসহ ৪ ভারতীয় নাগরিককে জামিন দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (তৃতীয়) আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী একরামুল হক পিন্টু বলেন- অন্তসত্ত্বা সোনালী খাতুন যে কোন সময়বাচ্চা প্রসব করতে পারেন। এই বিষয়টি বিবেচনায়নিয়ে তিনিসহ বাকী আরও তিনজনকে জামিন দেয়া হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলা গ্রামের ফারুক হোসেন তার জিম্মাদার হয়েছেন। তিনি সোনালী বিবির আত্মীয় হোন।

গত ২০ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আলীনগর থেকে সোনালী বিবিসহ ৬ ভারতীয় নাগরিক কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন- পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের বীরভূম জেলার পাকুরের বাসিন্দা ও সোনালী খাতুনের স্বামী দানিশ শেখ (২৮), তাদের সন্তান সাব্বির শেখ (৮) এবং সুইটিবিবি (৩৩) ও তার দুইসন্তান, মো. কুরবান দেওয়ান (১৬) ও মো. ইমামদেওয়ান (৬)।

পুলিশ ও বিজিবি জানায়, ওই ছয় ভারতীয় নাগরিককে কুড়িগ্রামের একটি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করে বিএসএফ। পরে তাদের বিরুদ্ধে সীমান্তে অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ওই ছয়জনের মধ্যে দুইজন কোলের শিশু হওয়ার মামলায় তাদের আসামী করা হয়নি।

ঘটনাটি ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং দেশটিতে আলোচনার জন্ম দেয়। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতাহাইকোর্ট গত ২৬ সেপ্টেম্বর৬ ভারতীয় নাগরিককে ফেরাতে ৪ সপ্তাহের সময়বেধে দেয়।