শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য, সময়োপযোগী পদক্ষেপ সহায়ক ভূমিকা রাখবে

WP Import ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৩১ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা পদ্ধতি, প্রশিক্ষিত শিক্ষক, উপযোগী পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন কৌশল, সহায়ক পরিবেশ (যেমন র‌্যাম্প, ব্রেইল), সহানুভূতি, উৎসাহ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে তাদের শারীরিক ও মানসিক চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা ও মনোযোগ দেয়া- যাতে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই শিখতে পারে এবং সমাজে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ইস্যুটি দীর্ঘ দিনের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ সবের কার্যকর উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেলেও বৃহত্তর ক্ষেত্রে এর অগ্রগতি খুবই হতাশাজনক। আশার কথা এই যে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে আগ্রহ বাড়ছে। আগের মত তেমন করে তাদের নানা অপবাদের শিকার হতে হয় না। তবে পরিস্থিতির আরো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দরকার।
এমনই পরিস্থিতিতে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছেন- যা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সুবিধা প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে- সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হল ও মিলনায়তন, ক্যাফেটেরিয়া, জুবেরী ভবন ও সিনেট ভবনে প্রতিবন্ধীদের প্রবেশের জন্য র‌্যাম্প সংযুক্ত করা হবে। প্রতিবন্ধীদের যেতে হয় এমন সকল প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে লিফট স্থাপনের ব্যবস্থা করা; আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ করা, প্রতিটি হলের নিচতলায় ওয়াশরুমের পাশের রুমগুলো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা; চাহিদা বিবেচনা করে অসচ্ছল মেধাবী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করা; দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরীক্ষায় সময় বৃদ্ধির প্রচলিত বিধান অনুসরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শসহ বিভাগসমূহে পত্র প্রেরণ; আবাসিক হলসমূহের প্রতিটি ব্লকে এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনসমূহের নিচতলায় কমপক্ষে একটি ওয়াশরুমে হাই-কমোডের ব্যবস্থা করা। এছাড়া বিভাগ ও ইনস্টিটিউটসমূহ ও রাবি গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে এমন কম্পিউটারে প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে জজ সফটওয়ার যুক্ত করা; বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রযোজ্য সরকারি নীতি অনুসরণে লক্ষ্য রাখা; শ্রবণ পরীক্ষার যন্ত্রপাতির সুবিধাসহ মেডিকেল সেন্টারে নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ-সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষাথীদের এগিয়ে নিতে সমাজের দায়-কর্তব্য রয়েছে। কেবল এটা স্বীকৃত হলে চ্যালেঞ্জের অনেকখানিই উত্তরণ সম্ভব হয়। এই শিক্ষার্থীদের সমাজের মূল স্রোতধারায় আনতে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার থাকতে হবে। এটা শুধুই সচেতনতার বিষয় নয়, একই সাথে সক্ষমতারও বিষয়। সক্ষম কার্যক্রম, যোগাযোগ, আচরণ-বৈশিষ্ট্য দ্বারা সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হয়ে দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।