মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে এটিই সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচন, প্রার্থীদের ব্যয় রেকর্ড ১২০০ কোটি ডলার

সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে এটিই সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচন, প্রার্থীদের ব্যয় রেকর্ড ১২০০ কোটি ডলার
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রচার ব্যয় অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে অর্থায়নের হিসাব রাখা স্বাধীন সংস্থা ওপেন সিক্রেটস পূর্বাভাসে বলছে, এবারের নির্বাচনে মোট ব্যয় প্রায় ১ হাজার ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।


বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে বিপুল অর্থ ঢালছে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী। প্রচারের বড় অংশের অর্থ আসছে রাজনৈতিক প্রার্থীদের বাইরের সংগঠন থেকে। এসব সংগঠন ‘সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ বা ‘সুপার পিএসি’ নামে পরিচিত।


এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে তিনি প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করেছেন। বিশেষ করে টেক্সাসে নির্বাচনী প্রচারে তাঁর অর্থায়ন বেশি। মাস্কের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর এ অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত।


নির্বাচনী প্রচারে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল ও পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা পিএসিগুলো সরাসরি প্রার্থীদের কত অর্থ অনুদান দিতে পারবে, তার নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। তবে সুপার পিএসিগুলো ব্যক্তি, করপোরেশন, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক কমিটির কাছ থেকে সীমাহীন অর্থ অনুদান নিতে পারে। এসব অর্থ সরাসরি কোনো প্রার্থীকে দেওয়া যায় না। তবে পরোক্ষভাবে প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় ব্যয় করা যায়।


ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) সর্বশেষ নথি অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ৯৫০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি অর্থ এসেছে পিএসি ও সুপার পিএসিগুলোর মাধ্যমে। এসব সংগঠন প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। নির্বাচনের আগের কয়েক মাসে তাদের ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।


প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও বাইরের সংগঠনগুলোকে এফইসির কাছে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই মোট ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যাবে।

অতীতের নির্বাচনী ব্যয়ের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে ওপেন সিক্রেটস পূর্বাভাস দিয়েছে, এবার মোট ব্যয় ১ হাজার ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২২ সালের সর্বশেষ মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে অর্থ ব্যয় হয়েছিল, এবারের ব্যয় তার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি হতে পারে।


সবচেয়ে বেশি অর্থ দিচ্ছেন যাঁরা

উদারপন্থী গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত শীর্ষ ৪০ জন দাতা ২৪০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারপর্বের এই সময় পর্যন্ত এত বেশি অনুদানের নজির আগে দেখা যায়নি।


যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী অর্থায়নবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল বেকেল বলেন, ‘২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যয়ের ক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অর্থ আসছে।’


ব্যক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও পিএসিগুলোকে অনুদান দিতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ধনকুবের অর্থলগ্নিকারী জর্জ সরোসের প্রতিষ্ঠিত জিওসর করপোরেশন ও ফান্ড ফর পলিসি রিফর্ম উদারপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে সম্মিলিতভাবে ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে।


সরোসের বাইরে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় দাতা নিউইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র ও ব্যবসায়ী মাইকেল ব্লুমবার্গ। তিনি ৬ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।

এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক রিচার্ড ও এলিজাবেথ উইলেইন এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের প্রধান জেফ ইয়াসসহ কয়েকজন ধনকুবের রিপাবলিকানদের বিভিন্ন নির্বাচনী উদ্যোগে ১০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।


এফইসির নথি থেকে আরও জানা যায়, একক ব্যক্তি হিসেবে সবার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ দিয়েছেন ইলন মাস্ক। অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর অনুদানের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি ডলার। মাস্কের বেশির ভাগ অর্থ গেছে ২০২৪ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সুপার পিএসি ‘আমেরিকা পিএসি’তে। এ ছাড়া রিপাবলিকান-সমর্থিত ‘সেনেট লিডারশিপ ফান্ড’কেও অর্থ দিয়েছেন তিনি।


এ ছাড়া মাস্কের অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর বিরুদ্ধে লড়ছেন।

টেক্সাসের নির্বাচনে আমেরিকা পিএসি ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এ ছাড়া মিশিগান ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচন—প্রতিটিতে প্রায় ১ কোটি ডলার করে ব্যয় করেছে সংগঠনটি।


ওপেন সিক্রেটসের ব্রেন্ডন জে গ্লাভিন বলেন, ‘এবারের নির্বাচনী প্রচারে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলোও বেশ সক্রিয়। রিপল ও কয়েনবেস মিলে ক্রিপ্টো শিল্পের স্বার্থ তুলে ধরতে কাজ করা সুপার পিএসিগুলোকে ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে।’


কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে এত অর্থ

ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে নির্বাচনী প্রচার ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো নানা খাতে অর্থ ব্যয় করে। এর মধ্যে রয়েছে মাঠপর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কর্মী নিয়োগ, নির্বাচনী সমাবেশের মতো প্রচারমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ জনমত জরিপ পরিচালনা।


তবে নির্বাচনী প্রচারের অর্থের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হয় বিজ্ঞাপনে। বিশেষ করে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে। বিজ্ঞাপনের ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ নাগাদ এবারের নির্বাচনী প্রচারে বিজ্ঞাপন খাতে ১ হাজার ১১৫ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে।


মাইকেল বেকেল বলেন, ‘বিজ্ঞাপনের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে এখনো প্রচলিত সম্প্রচারভিত্তিক টেলিভিশনই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে। তবে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ব্যয়ের পরিমাণও ক্রমাগত বাড়ছে।’

মাস্কের নির্বাচনী ব্যয়ের মতো বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে মিশিগান, টেক্সাস ও ওহাইওর সিনেট নির্বাচন ঘিরে। এরপর রয়েছে আইওয়া ও মেইন অঙ্গরাজ্য।


তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা অনলাইন