মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬

এভারেস্টের বেসক্যাম্পের কাছে দুই কপ্টারের সংঘর্ষ! নেপালে ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু

সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০১:৩৪ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০১:৩৪ অপরাহ্ন
এভারেস্টের বেসক্যাম্পের কাছে দুই কপ্টারের সংঘর্ষ! নেপালে ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু
নেপালে হিমালয়ের কোলে দু’টি কপ্টারের সংঘর্ষ! ছবি: সংগৃহীত

নেপালে হিমালয়ের কোলে, এভারেস্টের বেসক্যাম্পের কাছে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ! মৃত্যু হল ভারতীয় পর্যটকের। নেপালের সংবাদমাধ্যম ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ওই ভারতীয় পর্যটকের নাম বসন্তকুমার বলরামরামাদু। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক জন। মঙ্গলবার সকাল সওয়া আটটা নাগাদ (নেপালের স্থানীয় সময় অনুযায়ী) নেপালের সোলুখুম্বু জেলার ফেরিচে এলাকায় একই সময়ে অবতরণ করার চেষ্টা করছিল দু’টি হেলিকপ্টার। সেই সময় দু’টির মধ্যে সংঘর্ষ হয়।


সংঘর্ষের ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে সাদা বরফে ঢাকা পাহাড়ের কোলে নামার সময় সংঘর্ষ হচ্ছে দু’টি কপ্টারের মধ্যে। সংঘর্ষের পরেই ছিটকে মাটিতে পড়ছে দু’টি কপ্টার (যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। নেপালের স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, যে দু’টি কপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, সে দু’টির একটি ‘এয়ার ডায়ন্যাস্টি’ সংস্থার। অপরটি ‘ফিশটেল এয়ার’ সংস্থার। যে জায়গায় দুর্ঘটনাটি হয়, সেটি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে এবং এভারেস্টের বেসক্যাম্প থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।


সোলুখুম্বু জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক নবীন রাজা বুধাঠোকি সংবাদসংস্থা এএফপি-কে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে ওই ভারতীয় পর্যটকের। তিনি ‘ফিশটেল এয়ার’ সংস্থার কপ্টারটিতে ছিলেন। দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন একই কপ্টারে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিউ জ়িল্যান্ডের নাগরিক শৈলেশকৃষ্ণ পটেল। তাঁকে কপ্টারে চাপিয়ে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুই কপ্টারের পাইলটের অল্পবিস্তর চোট-আঘাত লেগেছে। তাঁদের চিকিৎসা চলছে কাঠমান্ডুতে। দুই কপ্টার মিলিয়ে মোট কতজন ছিলেন, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।


পূর্ব নেপালের কোশী প্রদেশের সোলুখুম্বু জেলার ফেরিচে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩৭১ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। হিমালয় ঘেরা এই গ্রামে মূলত শেরপাদের বাস। এই জায়গা থেকে অনেক পর্যটক এভারেস্টের বেসক্যাম্পের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।


নেপালে পর্যটক কিংবা পর্বতারোহীদের উঁচু এলাকায় পৌঁছে দিতে, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কাউকে উদ্ধার করতে কিংবা জরুরি মালপত্র পরিবহণের জন্য ছোট হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু হিমালয়ের কোলে পাহাড় ঘেরা এলাকায় বিমান বা কপ্টার চালানো যথেষ্ট ঝুঁকির। ঘন ঘন আবহাওয়া পরিবর্তন সেই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। অতীতেও ভারতের প্রতিবেশী এই দেশে একাধিক কপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে।


তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন