চাঁপাইনবাবগঞ্জে একই সড়ক নির্মাণ কাজ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি সড়ক নির্মাণকাজ নিয়ে একই দিনে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন দেশের শাসকদল বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ ও বিরোধী দলীয় স্থানীয় এমপি ও জমায়াত নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল। দুই নেতার এমন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি শুধু উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে শব্দ বোমা ফাটান। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দাবী করেছেন সড়কটির কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। দুই নেতাই মূলত নির্মাণকাজ পরিদর্শন ও তদারকিতে গিয়েছিলেন।
জানা গেছে, সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় বাখের আলী বিওপি ক্যাম্প থেকে ফরিদপুর বিওপি ক্যাম্প পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার ৫৫০ মিটার সড়ক নির্মাণ করছে এলজিইডি। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৩১ টাকা। সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল ও নজরদারি সহজ করার পাশাপাশি পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বাড়ানো এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। এলজিইডি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে সড়কটির নির্মাণকাজ পরিদর্শন ও উদ্বোধন কর্মসূচিতে অংশ নেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি আগত জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সদর আসনে যেসব উন্নয়নকাজ হবে, সেগুলোর দায়িত্ব সংসদ সদস্যের। নিজের নির্বাচনে হারুনুর রশীদের তুলনায় প্রায় ৬২ হাজার ভোট বেশি পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে তা প্রতিহত করা হবে।
সভায় নুরুল ইসলাম বুলবুল আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়নে হারুনুর রশীদ তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চাইলে স্বাগত জানাবেন। তিনি বলেন, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে জেলাকে এগিয়ে নিতে চান। তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে হারুনুর রশীদের বরাদ্দ, বাজেট ও ব্যয়ের হিসাব তদারকি করা সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর দায়িত্ব। তবে তাঁর নিজের উন্নয়নকাজে হস্তক্ষেপ করার দায়িত্ব সাবেক সংসদ সদস্যের নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে ওই সড়কে পৃথক কর্মসূচি পালন করেন সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ। তিনি ফিতা কেটে সড়কটির উদ্বোধন করেন।
তিনি আগত জনগণের উদ্দেশ্য বলেন, সড়কটির বরাদ্দ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। নতুন সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এলাকায় আরও অনেক কাঁচা রাস্তা রয়েছে। সেগুলোর জন্য বরাদ্দ নিয়ে এসে কাজ করার সক্ষমতা দেখাতে আহবান জানান।
এ রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হারুনুর রশিদ বলেন, এনিয়ে এমপি বুলবুলকে প্রশ্ন করুন। তিনিই বলতে পারবেন। আমি নিজে এসব রাস্তা-ঘাটের বরাদ্দ নিয়ে আসছি, আর তিনি (এমপি বুলবুল) গিয়ে উদ্বোধন করছে। একজন এমপির প্রটোকল তাকে বুঝতে হবে। বরাদ্দ নিয়ে আসার সুবাদে আমি সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে পরিদর্শন বা উদ্বোধন করতেই পারি।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, এলজিইডির পক্ষ থেকে সড়কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়নি। উদ্বোধন হলে সেখানে ফলক স্থাপন করা হতো। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্য দুজনই নির্মাণকাজ পরিদর্শন ও তদারকির জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নকাজ দেখতে গেলে এলজিইডির কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সময়সীমা রয়েছে।