ঈশ্বরদীতে নিজ স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে করলেন শিক্ষক
পাবনার ঈশ্বরদীতে নিজ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বাল্যবিয়ে করেছেন একই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা। অভিযুক্ত শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসা বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা তাকে স্কুলে প্রবেশ করতে বাধা দেন। পরে ক্লাস না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈশ্বরদীর মানিকনগর গ্রামের এই বালিকা বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসার সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী বিয়ের দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে যান। প্রথমে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে চাপের মুখে গত শুক্রবার মধ্যরাতে গোপনে ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেন শিক্ষক মুসা।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিয়ের অভিযোগ ওঠার পরও অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হলে গোপনে ওই শিক্ষার্থীকে শিক্ষকের বাড়ি থেকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিয়ের বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। ছাত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক এবং ওই শিক্ষার্থীর দুই দিন ধরে তার বাড়িতে অবস্থান করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান জানান, তিনি লোকমুখে বিষয়টি শুনেছেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার বলেন, আমিও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। এমন একটি ঘটনায় বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। প্রধান শিক্ষক দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় থাকায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। দ্রুতই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে বাল্যবিবাহ একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ। তাঁর ভাষ্য, একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে বিয়ে করায় অভিযুক্ত শিক্ষকের নৈতিক স্খলন ঘটেছে, এ ঘটনায় বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদকে অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।