শুক্রবার, নভেম্বর ০৬, ২০২৬

দ্বীপ ও দিশাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
দ্বীপ ও দিশাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
মারা যাওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। ছবি: সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ এবং বান্ধবী জেরিকা তাসনীম দিশাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে নতুন সব তথ্য বেরিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তদন্তের স্বার্থে এই মূহুর্তে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তারা।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ‍“ঘটনার অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন রিমান্ডে থাকা দ্বীপ ও নিহতের বান্ধবী  দিশা। নিহত বিমান বাহিনীর কমকর্তার বাসা থেকে বের হওয়া, বারে যাওয়া, এরপর হেরোইন খুঁজতে মাজার বস্তিতে যাওয়া। এছাড়া, সেই রাতের আরো কিছু তথ্য দিয়েছেন তারা। যেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।” 


এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কিভাবে তিনি (তাহফিস) নদীতে পড়লেন, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য রিমান্ডে থাকা আসামিদের তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এর বাইরে এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।”


তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নৌ-পুলিশ দ্বীপ ও দিশার দেওয়া তথ্যের বৈপরীত্য বা গড়মিল দূর করতে এবং ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনে তাদের দুজনকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে দ্বীপের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্যের বড় ধরনের অসংগতি পাওয়ায় তদন্ত সংস্থা গত ২ ও ৩ নভেম্বর দুই আসামিকে মুখোমুখি বসিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে তাহসিফকে দ্বীপ ও দিশার সঙ্গে একটি পানশালায় দেখা গিয়েছিল, যার সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্বীপের সঙ্গে তাহসিফ প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন। তবে, সেখানে তাদের মধ্যে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কিনা এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি দ্বীপ। 


জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ দাবি করেছেন, ঘটনার রাতে মাজার বস্তি এলাকায় তাহসিফ ও তাকে কিছু লোক ধাওয়া করে।  তারা পুলিশের সদস্য ছিলেন এবং ধাওয়ার মুখে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন, দীপ পালিয়ে যান। ঘটনার তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ধাওয়াকারীরা মাদক কারবারি নাকি অন্য কেউ।


দ্বীপ জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, দিশার ওপর অভিমান করেই ঘটনার রাতে তাহসিফ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকার দিকে গিয়েছিলেন। মাজার বস্তি এলাকায় পুলিশের পোশাক পরিহিত দুজনকে দেখে তারা ভয় পেয়ে দুই দিকে দৌঁড় দেন। পুলিশ ধাওয়া দেওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তাহসিফের মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।


অন্যদিকে, দিশা জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন বা নীরব থেকেছেন। কোন প্রশ্নের বিস্তারিত বলছেন না বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। 

তাহসিফের বান্ধবী দিশাকে কাফরুল থেকে গ্রেপ্তার করার পর ১ নভেম্বর আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আদালত দিশারও দ্বিতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। 


এদিকে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তৃতীয়বারের মতো দ্বীপকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ঘটনার তদন্ত সংস্থা নৌ পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে দ্বীপকে পাঁচটি কারণে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানানো হয়। সেগুলো হলো- কেন এবং কি কারনে তাহসিফকে হত্যা করা হয়েছে।  (পূর্বশত্রুতা, আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত কোন্দল) তা নিশ্চিত হওয়া। হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা, মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের তথ্য সংগ্রহ করা, হত্যার পেছনে অন্য মূল পরিকল্পনাকারী ভাড়াটে খুনি বা সহায়তাকরী জড়িত আছে কিনা তা জানা, ঘটনার সাক্ষী ও সিসিটিভি ফুটেদের তথ্যের সঙ্গে আসামির জবানবন্দি মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মিলিয়ে দেখা, অপরাধের ধরণ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। 


এর আগে, প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় দ্বীপকে। সেই রিমান্ড শেষে ৩ নভেম্বর পুলিশ তাকে আবারো আদালতে হাজির করে তিন দিনের দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে নেয়।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তকারীরা বর্তমানে তাহসিফ, দ্বীপ ও দিশার মোবাইল কললিস্ট (সিডিআর), সিসিটিভি ফুটেজ এবং ডিজিটাল ডিভাইসগুলো বিশ্লেষণ করছেন। দিশাকে ওই রাতে বাসায় নামিয়ে দেওয়ার পর তাহসিফের ঠিক কী ঘটেছিল এবং তার সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটি কীভাবে টঙ্গীর বস্তি এলাকায় গেল, তা উদঘাটন করাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।


গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে ঢাকার উত্তরখান থানার তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তার মরদেহ মেলে। ৩১ অক্টোবর তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামালায় দ্বীপ ও দিশাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি