সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা, না জানার কারণে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়
সড়ক দুর্ঘটনা দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা। এই সমস্যা নিয়ে সভা-সেমিনারে আলোচনা-সমালোচনা হয়, দাবি উঠে. অসংখ্য পরামর্শ জমা হয় কিন্তু সমস্যাটির মোটেই সমাধান হয় না। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু এবং ততধিক সংখ্যক মানুষ আহত হয়-পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন যাপন করেন অনেকেই। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী গেল অক্টোবর মাসে ৪৬৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৯ জন নিহত, ১২৮০ জন আহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের নানা ধরনের সঙ্কটের মধ্যে পড়েন। বিশেষ করে আর্থিক সঙ্কট খুবই মারাত্মকভাবে পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সরকার সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। সাধারণ মানুষের কাছে এমন মহৎ উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বিষয়টি অধিকাংশ মানুষই জানেন না। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা না চালানোর কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ মানুষ এটি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নয়। এজন্য দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা ছাড়াও জনবহুল এলাকা, হাট-বাজারে এ সম্পর্কিত প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি বিলবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা গড় তোলা যায়।
সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটনের অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে ফরম-৩২ এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ, জেলা সার্কেলে চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড বরাবর আবেদন করতে হবে।
দুর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ, জেলা সার্কেল চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষে আবেদন করা যায় এবং পরবর্তীতে উক্ত আবেদনসমূহ অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড বরাবর প্রেরণ করা হয়।
আবেদনপত্রের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম নিবন্ধন, মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, মৃত্যু সনদ, বৈধ ওয়ারিশ সনদ ইত্যাদিসহ ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক চাহিত সকল কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হয়।
ওই দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা করাতে কাঠখড় পোড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে। চিকিৎসা করাতে ঋণগ্রস্ত হতে হয়। একই দুর্ঘটনায় নিহতের পরিাবার মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। সে ক্ষেত্রে সরকারের এই সহায়তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সরকার আর্থিক সহায়তা দেয়ার বিষয়টি না জানানো জন্য তেমন প্রচারণা নেই। বিআরটি-এর পক্ষ থেকে তেমন প্রচারণার উদ্যোগ না থাকায় বিষয়টি অজ্ঞতার মধ্যেই থেকে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ হবে সরকারের এই সহায়তার বিষয়টি ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মধ্যে নিয়ে আসা। যাতে করে সাধারণ সহজেই সরকারের সহায়তা নিতে পারেন।