শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

দেশে ঢুকছে মাদকের কাঁচামাল! সামাজিক প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না কেন?

WP Import ১০ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৪০ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ১০ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে কোনো প্রকার মাদকের উৎপাদন হয় না। বিভিন্ন প্রকারের মাদক প্রতিবেশি দেশের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করে এবং তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা প্রান্তে। আন্তর্জাতিক রুট হিসেবেও ব্যবহৃত হয় বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতিতে মাদকই দেশের বড় সামাজিক সমস্যা। সামাজিক অপরাধ সৃষ্টিতে মারাত্মক ভূমিকা রাখছে মাদক। দিনের সাথে পাল্লা দিয়ে এই সমস্যা প্রকট হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য বলছে দেশে মাদক আসক্তের সংখ্যা ৮৩ লাখ, তার মধ্যে ২ লাখ ৫৫ হাজার শিশু রয়েছে। এ তথ্য উদ্বেগ- উৎকণ্ঠার কারণ। দেশের যুব সমাজ নানা কারণে মাদকে আসক্ত হচ্ছে।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য থেকে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে আসছে ভয়ংকর মাদক হেরোইন তৈরির কাঁচামাল। বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে তা চলে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। পরবর্তীতে ভারতের কারখানায় ‘হেরোইন’ উৎপন্ন হওয়ার পর ফের তা প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এ বিষয়টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে অবহিত করেছে রাজশাহীর আঞ্চলিক কার্যালয়। অন্যদিকে, হেরোইনের বীজের বিষয়টি নতুন করে দেশে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। নানা কৌশলে শুল্ক কর্তৃপক্ষসহ নানা সংস্থার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব বীজ দেশে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্প হয়ে ড্রাগ চোরাচালানের ঘটনাও ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদক পাচার ঠেকাতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ডিএনসি সূত্র বলছে, রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে আসা গোপনীয় এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা ও টেকনাফ হয়ে স্থল পথে পণ্যবাহী যানবাহন ব্যবহার করে আফিমের কাঁচামাল বড় পরিসরে রাজশাহীর সীমান্তবর্তী সুলতানগঞ্জ বন্দর হয়ে ভারতে যাচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমে তথ্য বিবরণীতে জানা যায়, গত ১০ বছরে নেশাখোর সন্তানের হাতে প্রায় ২০০ বাবা-মা খুন হয়েছেন, স্বামী হত্যা করেছে স্ত্রীকে, স্ত্রী হত্যা করেছে স্বামীকে। খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ, পরকীয়া, দাম্পত্য কলহ, অর্থ লেনদেন, হত্যা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম সবকিছুর মূলেই রয়েছে এই মাদকের নেশা। সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ৩৩ ভাগ দায়ী চালকের মাদক সেবন।
পরিস্থিতি এমন যে, সর্বনাশা মাদক একপ্রকার বাংলাদেশকে আঁকড়ে ধরেছে। অস্তিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিতে মাদক ভূমিকা রেখে চলেছে। আমরা সবাই বলছি, মাদক প্রতিরোধ করতে হবে। এটাই সমাজের চাহিদা। কেননা পরিবার থেকে শুরু করে কেহই মাদকের থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। কিন্তু মাদককে বাগে আনা যাচ্ছে না। বরং নতুন নতুন ফর্মে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে। নিশ্চয় সর্ষের কোথাও ভূত লুকিয়ে আছে- যার কারণে মাদককে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। এর জন্য সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজন সর্বাগ্রে। সমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে সক্ষম করে গড়ে তোলা সম্ভব না হলে সামাজিক আন্দোলন হবে না। সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সরকারের বিশেষ কর্মসূচি প্রয়োজন হবে। যে কর্মসূচি মাদক প্রতিরোধে দেশের মানুষকে একাট্টা করবে।