পোরশায় চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যার রহস্য উদঘাটন, বাগানে পেয়ারা চাইতে গেলে ধর্ষণ চেষ্টার পর হত্যা করা হয় সুমাইয়াকে

পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি :
নওগাঁর পোরশা উপজেলার ছাওড় ইউনিয়নের কুশারপাড়া গ্রামের হাসিম উদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া ইয়াসমিন(৯) গত ৯ অক্টোবর সকালে বাসায় খাওয়া দাওয়া করে অনুমানিক সকাল ৯টায় খেলাধুলার জন্য বাড়ির বাইরে গেলে কিছু সময় পর তার মা মোবাইলের মাধ্যমে জানতে পারেন যে সুমাইয়া ইয়াসমিনকে কে বা কারা হীরাডাঙ্গা গ্রামস্থ জনৈক মোশারফ হোসেন মশা এর আমবাগানের ভিতরে হাত বেঁধে মুখের ভিতর মাটি দিয়ে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।
ঘটনার বিষয়ে সংবাদ পেয়ে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ পোরশা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং এ বিষয়ে পোরশা থানায় তাৎক্ষণিক একটি হত্যা মামলা রুজু করা করা হয়। মামলাটি রুজু হওয়ার পরপরই নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার বিপিএম এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং মহাদেবপুর সার্কেল এর তদারকিতে পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ মিন্টু রহমানের নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল মামলার ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে।
১০ অক্টোবর রাতে এ ঘটনায় জড়িত তিন আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কুশারপাড়া গ্রামের আ. বারির ছেলে মাহবুব আলম (৩০), একই গ্রামের বদিনাথের ছেলে শ্রী সুজন (১৯), পাঁচড়াই গ্রামের মৃত আঃ জব্বারের ছেলে নুর আলম(৩০)।
রোববার (১২ অক্টোবর) বিকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভিকটিম সুমাইয়া একটি প্লাস্টিকের সাদা ব্যাগ নিয়ে ধৃত আসামী মাহবুব এর কাছে বাগানে পেয়ারা নিতে গেলে পেয়ারা দেওয়ার কথা বলে ভিকটিমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে আসামীরা পালাক্রমে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশু সুমাইয়া চিৎকার করলে তাকে কাপড়ের মোটা ফিতা গলায় পেঁচিয়ে হাত বেঁধে এবং মুখের ভিতর মাটি দিয়ে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। মামলার ঘটনা বর্ণনা দিয়ে নিজেদের জড়িয়ে উক্ত আসামীগণ বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত অপর এক আসামী পলাতক রয়েছে।