সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬০ কোটি টাকার আলামতসহ মালখানায় লুট মামলার তদন্তে ধীরগতি

WP Import ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
WP Import ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬০ কোটি টাকার আলামতসহ মালখানায় লুট মামলার তদন্তে ধীরগতি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬০ কোটি টাকার আলামতসহ মালখানায় লুট মামলার তদন্তে ধীরগতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আদালতের মালখানায় ভয়াবহ লুটের ঘটনা ঘটেছিল গত বছরের ৫ আগস্ট। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে দুর্বৃত্তরা আদালতের নিচতলার মালখানা ভেঙে প্রায় ৬০ কোটি টাকার আলামত লুট করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে ছিল ৭০টি আগ্নেয়াস্ত্র, শত শত রাউন্ড গুলি, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও স্বর্ণালংকার। কিন্তু ঘটনার এক বছর পার হলেও এখনো উদ্ধার হয়নি অস্ত্র ও গুলি। তবে পুলিশের দাবি দ্রুত সময়ের লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার হবে।

মামলার নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, সেদিন মালখানা থেকে লুট হয় ৫০টি পিস্তল, ২৫০ রাউন্ড গুলি, পিস্তলের ১০০ ম্যাগাজিন, ২০টি শুটারগান ও ২৫ রাউন্ড গুলি। এছাড়া জব্দকৃত মাদকদ্রব্য, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, নগদ টাকা ও বিদেশি মুদ্রাসহ প্রায় ৬০ কোটি টাকার আলামত হারিয়ে যায়।

মালখানার দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক মনিরুল করিম খান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তবে মামলায় কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। আদালতের পক্ষ থেকেও একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হলেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলেনি। তিনি বলেন, কিছু মোটরসাইকেল ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হলেও অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তার দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার হবে।

শহরের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ বলছেন, লুট হওয়া এসব অস্ত্র যেকোনো সময় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ব্যবহার হতে পারে। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে তাদের ভয় আরও বেড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, এই অস্ত্র যদি রাজনৈতিক সহিংসতায় ব্যবহার হয়, তাহলে তারা অস্থিরতায় পড়বে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহম্মদ ইসাহাক বলেন, আলামত বিচারাধীন মামলায় অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে পরিবর্তিত সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া রাষ্ট্রের কাছে আলামতখানার গুরুত্বপূর্ণ নথি আছে। তিনি আরও বলেন মামলার সাক্ষীও বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ । কাজেই এসব মামলায় কোন ঝুঁকি নেই।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবদুল ওদুদ ভিন্নমত প্রকাশ করে বলেন, একটি মামলার চার্জশিট ও সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রমাণ করতে পারব যে আলামত আদালতে ছিল। পরিবর্তিত সময়ে মালখানা লুট হয়েছে,। এটাতো সকলেই অবগত। এমতাবস্থায় এসব মামলায় কোনো আসামি শাস্তি এড়াতে পারবে না।

এ বিষয়ে আইনজীবী মো রবিউল ইসলাম বলেন আলামত বিচারাধীন মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেক্ষেত্রে আলামত ছাড়া বিচারাধীন মামলাগুলো বিচারকার্য ত্রুটিপূর্ণ। তবে আলামত উপস্থাপিত না হলে বিজ্ঞ বিচারক এর সিধান্ত গ্রহণের অধিকার রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. মতিউর রহমান জানান, মামলার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। তিনি বলেন, এখানে পুলিশের কোনো অবহেলা নেই। সন্দেহভাজন হিসেবে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতের মালখানার লুটের ঘটনায় এক বছর পার হলেও তদন্তে অগ্রগতি নেই। অস্ত্র-গুলির হদিস না মেলায় জনমনে শঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেকোনো মূল্যে এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা জরুরি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, ৮/১০ আসামি ধরা হয়েছে সাথে লুন্ঠিত কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের সনাক্ত ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হবে।