ভালো ফলনেও মুখে হাসি নেই পান চাষিদের

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার পানের বাম্পার ফলন হলেও দাম পড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পান চাষিরা। প্রতি পণ পান ৩ থেকে ৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে, যা খুচরা বাজারে একটি পানের সমান দাম। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।
জানা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে এ বছর জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানের ফলন ভালো হয়েছে। বরজে এখনো পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা, পাশাপাশি বাজারজাতও চলছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম অনেক কম। গত বছর বড় পান প্রতি পণ ১৫০ টাকা, মাঝারি ১০০ টাকা এবং ছোট পান ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার বড় পান মিলছে ৪০-৫০ টাকায়, মাঝারি ২০-৩০ টাকায় আর ছোট পান মাত্র ৩-৫ টাকায়। ফলে অনেকে ক্ষোভে বাজারেই ফেলে দিচ্ছেন তাদের পান।
বালিয়াডাঙ্গার পান চাষি হানিফ আলি জানান পান চাষে খৈল, বাঁশসহ নানা উপকরণের খরচ অনেক, অথচ বিক্রির সময় দাম মিলছে না।
আরেক চাষি সিহাব খান জানান, পানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় আমি চাষ কমিয়ে দিয়েছি।
চাষিদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ উঠছে না। এতে হতাশ হয়ে অনেকেই পান চাষ থেকে সরে আসার চিন্তা করছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, পানের বাজার টিকিয়ে রাখতে হলে রফতানি বাড়াতে হবে। রফতানি কমে যাওয়ায় চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ ও কৃষি বিপণনের মধ্যে সমন্বয় হওয়া জরুরী।
অন্যদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিকল্প ও লাভজনক ফসলের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হেক্টর কম। দাম না থাকায় কৃষকেরা দিন দিন নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, লাভজনক ফসলের আবাদের বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা বেশি লাভবান হতে পারেন ও বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ এগিয়ে নিতে পারেন।