ঠিকানা জটিলতায় কারাগারে থাকা রামলাল দেব মাহাতো ফিরলো ভারতে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঠিকানা জটিলতায় দীর্ঘ ৬ বছরের বেশি সময় ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ভারতের রামলাল দেব মাহাতোকে অবশেষে তার নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের ঠিকানাবিহীন মানুষকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার কাজ করে যাওয়া শামসুল হুদার এক বছরের চেষ্টায় রামদেব মাহাতো ঠিকানা খুঁজে বের হয়। এরপর দুই দেশেরে দপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে, সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে স্বজনদের কাছে ফিরে যান, ভারতের বিহারের পশ্চিম চাঁমপাড়ান জেলার গুদ্রা গ্রামের ৬০ বছর বয়সী রামলাল দেব মাহাতো।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, রামলাল দেব মাহাতোর ছেলে সুনীল মাহাতো, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান লাল বাচ্চা যাদব, বিজিবি, বিএসএফ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারের কর্মকর্তারা।
২০১৮ সালে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সীমান্তে তাকে আটক করা হয়েছিলো, এরপর ২০১৯ সালের মে মাসে তার সাজার মেয়াদ শেষ হলেও ঠিকানা জটিলতায় তাকে নিজ দেশে পরিবারের কাছে হস্তান্তর সম্ভব হয়নি।
সমাজকর্মী শামসুল হুদা জানান ১১ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমের পরে রামদেব মাহাতকে তার পরিবারকে ফিরিয়ে দিতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।
সামাজিক কর্মকা-ের অংশ হিসেবে এ যাবৎকালে ৮০ টি কেসের মধ্যে ৫২ টিতে সাফল্য অর্জন করেছি। এছাড়াও গত কয়েক মাস আগে কারা অধিদপ্তর থেকে ১৪০ জনের ভারতীয় নাগরিকের একটি তালিকা হাতে এসেছে। যার মধ্যে অধিকাংশই কোনো রকম ঠিকানা দেয়া নেই। সেটি নিয় কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে ওই তালিকা থেকে বেশ কয়েকজনের পরিবারকেও খুঁজে পেয়েছি। চলছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।
উল্লেখ থাকে যে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে বাংলাদেশী আটক এমন বেশ কিছু পাচার হওয়া নারী বন্দিকেও আমি ফেরত এনেছি। আরো ০৪ জন কে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়েছি। ইতিমধ্যে এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থল বন্দর দিয়ে বিহারের মুজাফফরপুর জেলার বিজলী কুমার রায় (মৃত দেহ) ১৪ এ মার্চ এবং ১১ মে হায়দরাবাদের আসসালান নামে দুজন ভারতীয় কে, প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।