গাজা শহরের দখল নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনি, ভয়ঙ্কর নির্মমতার কোনোই প্রতিকার নাই!
‘হামাস যদি নিরস্ত্রীকরণ এবং সমস্ত জিম্মিকে মুক্তি দিতে রাজি না হয় তবে গাজা শহর ধ্বংস করে দেয়া হবে।’ এই অহংকারী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ হুশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।
এই শহর তো হাজার হাজার বছরের পরিত্যক্ত ধ্বংসস্তুপের সাক্ষী নয়- এই শহরে প্রাণের স্পন্দন আছে। এই শহরের পরতে পরতে স্বপ্ন আছে, ভালবাসা আছে, সম্পর্ক আছে, জন্মের সংবেদনশীলতা আছে। এসব মানবিক গুণাবলী দুই বছরের অধিক সময় ধরে উপেক্ষায়িত-অবজ্ঞায়িত হচ্ছে। শহরের ঘর ও হাসপাতালে, স্কুলে কিংবা আশ্রয় ক্যাম্পে বোমা মেরে গুলি চালিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। ওই ধ্বংসস্তুপের মধ্যে কিংবা গুলি খেয়ে হাজার হাজার নারী, শিশু ও পুরুষ বুঝে ওঠার আগে মরে গেছে। এমন মানবিক বিপর্যয় এই একবিংশ শতাব্দিতেও বিশ^ চেয়ে চেয়ে দেখছে। প্রতিবাদের কথা কখনো কখনো উচ্চারিত হচ্ছে বটে কিন্ত প্রতিবাদের ভাষা নেহাতই ক্ষীণ, ফিলিস্তিনিরা প্রতিকার পাচ্ছে না। কী ভয়ঙ্কর! ফিলিস্তিনি জনগণকে অর্থাৎ একটি জাতিসত্তাকে নিশ্চিহ্ন করতে ক্ষুধাস্ত্রকেও ব্যব্হার করা হচ্ছে। ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের আর কী সংজ্ঞা থাকতে পারে- যা ইসরায়েলি বাহিনি কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হচ্ছে না। সভ্যতার বিরুদ্ধে এই ভয়াবহ নির্মমতাকে অহংকারের সাথে, নির্মমতার সাথে উচ্চারণ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা সত্ত্বেও ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা গাজা শহরে ব্যাপক আক্রমণের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। ইসরায়েলি সরকার হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং সমস্ত জিম্মিকে মুক্তির বিষয়টি সামনে এনেছে- এই কি সত্য ভাষণ? মোটেও তা নয়- ইতোমধ্যেই গাজা দখলের প্রস্তুতি ইসরায়েলি বাহিনি শুরু করেছে। শনিবার গাজা সিটির আরো গভীরে প্রবেশ করেছে ইসরায়েলি সেনারা। এসময় ইসরায়েলি হামলায় একদিনে অন্তত ৬৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে সংবাদ সূত্র জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী এবং শিশুরাও রয়েছে।
ফিলিস্তিনিরা কোন দেশে, কীভাবে শরণার্থীর জীবন পাবে সেটাও তারা উল্লেখ করে দিয়েছে। স্বভূমি থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার মত যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করে চলেছে ইসরায়েলি বাহিনি অথচ বিশ^ নেতৃত্ব কথার ফুলঝুরি ছড়িয়েই চলেছে, কিন্তু তাতে করে ফিলিস্তিতিনিদের অবর্ণনীয় হত্যা, নির্যাতন, ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন হচ্ছে না- এটাও ফিলিস্তিনিদের প্রতি নির্মমতা, উপহাস নয় কি?