শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

রংপুরে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

WP Import ২৪ আগস্ট ২০২৫ ০৯:১৯ অপরাহ্ন
WP Import ২৪ আগস্ট ২০২৫ ০৯:১৯ অপরাহ্ন
রংপুরে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
রংপুরে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় ভ্যান চুরির অপবাদে ‘মব’ সৃষ্টি করে দলিত জনগোষ্ঠীর দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। রোববার (২৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং দলিত জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন।

এসময় বক্তারা বলেন, গত ৯ আগস্ট রাত ৯টার দিকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা এলাকায় ভ্যানচোর সন্দেহে পিটিয়ে দুই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর এলাকার বাসিন্দা রূপলাল দাস (৪০) ও মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়াভাটা গ্রামের প্রদীপ দাস (৩৫)। এমন মব সৃষ্টি করে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আটক করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, নিহত রুপলাল রবিদাসের মেয়ে নুপুর দাসের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল এবং ঘটনার পরের দিন ১০ আগস্ট বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করার কথা ছিল। এজন্য নিজের ভ্যান চালিয়ে মামাশ্বশুর রুপলাল রবিদাসের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রদীপ রবিদাস। কিন্তু গ্রামের ভেতর দিয়ে রাস্তা না চেনায় প্রদীপ রবিদাস কাজীরহাট এলাকায় এসে রপলালকে ফোন করেন। রুপলাল সেখানে যান। তারা দুজনের ভ্যানে চড়ে রপলালের বাড়ি ঘনিরামপুর গ্রামের দিকে রওনা হন। রাত ৯টার দিকে তারাগঞ্জ-কাজীরহাট সড়কের বটতলা এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানচোর সন্দেহে তাদের দুজনকে থামান স্থানীয় কয়েকজন। এক পর্যায়ে তাদের ভ্যান চোর সন্দেহে তাদের মারধর শুরু করে। তখন রুপলাল বলেন, ‘আমি চোর না ডাকাতও না, আমি মুচি! তারাগঞ্জ বাজারে জুতা সেলাই এর কাজ করি।

তারা বলেন, তাদেরকে মারতে মারতে বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হয়। মারধরের এক পর্যায়ে তারা অচেতন হলে তাদের সেখানে ফেলে রাখা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকো তারাগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুপলালকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও প্রদীপ রবিদাসকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১০ আগস্ট ভোরে তিনিও মারা যান।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দলিত জনগোষ্ঠীর বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও বিচারের দাবিতে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পদক কর্নেলিওস মুরমু, সহ-সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল, জেলা এ্যাডভোকেসি ফোরামের ডিস্ট্রিক কো-অর্ডিনেটর রেজাউল করিম, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডেমোক্রেসি ওয়াচের সিনিয়র ফিল্ড অফিসার আরিফা খাতুন, সংস্থাটির যুব ফোরামের আহ্বায়ক ওয়ালিদ হাসান, সমাজসেবক ইসরাইল সেন্টুসহ অন্যান্যরা।