রবিবার, মে ০৩, ২০২৬

নর্থ বেঙ্গলে আখের মিষ্টি হাসি, নাটোর চিনিকলে লোকসানের দীর্ঘশ্বাস

সোনার দেশ ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন কৃষি
সোনার দেশ ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন
নর্থ বেঙ্গলে আখের মিষ্টি হাসি, নাটোর চিনিকলে লোকসানের দীর্ঘশ্বাস

নাটোরের চিনিশিল্পে এখন দুই বিপরীতমুখী হাওয়া। দীর্ঘ ২০ বছর পর লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে দেশের অন্যতম প্রাচীন নর্থ বেঙ্গল চিনিকল। অথচ একই জেলায় অবস্থিত নাটোর চিনিকল এখনো লোকসানের চোরাবালিতে আটকে আছে। আখের দাম বৃদ্ধির সুফল একটি কল ঘরে তুললেও অন্যটি ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি আর কৃষকদের অনীহায় ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে।


১৯৩৩ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত গোপালপুরের নর্থ বেঙ্গল চিনিকল গত দুই মৌসুমে প্রায় ৩০ কোটি টাকা লাভ করেছে। আখের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণার পর এই চিনিকল কর্তৃপক্ষ তাদের জোনে আখের উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। চলতি মাড়াই মৌসুমেও তাদের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করা।


চিনিকলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘চিনিকলটি বর্তমানে দৈনিক ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে। আধুনিকায়ন করা হলে এটি ২ হাজার ৫০০ টানে উন্নীত করা সম্ভব। তখন উৎপাদন খরচ আরও কমবে এবং লাভের পরিমাণ বাড়বে।’


টানা ২০ বছর ধরে লোকসানে থাকা নাটোর চিনিকল গত দুই মৌসুমেও প্রায় ২৫ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে। নর্থ বেঙ্গল চিনিকল যেখানে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আখের আবাদ নিশ্চিত করেছে, সেখানে নাটোর চিনিকল এলাকায় আবাদ হয়েছে মাত্র ৮ হাজার হেক্টরে। তবে এ বিষয়ে চিনিকলটির কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।


নাটোর চিনিকলের লোকসানের পেছনে কৃষকদের অভিযোগ ও অব্যবস্থাপনা বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সদর উপজেলার তেলকূপি এলাকার কৃষক রাশেদ জানান, নর্থ বেঙ্গল চিনিকল নাটোরের চেয়ে অন্তত তিন সপ্তাহ আগে মাড়াই শুরু করে। ফলে সেখানকার কৃষকরা দ্রুত জমি খালি করে ‘চৈতালী’ (শীতকালীন) ফসল চাষ করতে পারেন।


কৃষকদের অভিযোগ- নাটোর চিনিকলের লোকসানের পেছনে কৃষকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হচ্ছে। কৃষকদের প্রধান অভিযোগ হলো, নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের তুলনায় এখানে মাড়াই মৌসুম অন্তত তিন সপ্তাহ দেরিতে শুরু হয়, যা চাষিদের পরবর্তী ফসল আবাদে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া আখ বিক্রির অনুমতিপত্র বা ‘পুর্জি’ বিতরণেও চরম বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন তারা।


সাধারণ ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী চাষিরা দ্রুত পুর্জি পেলেও সাধারণ কৃষকরা তা পান অনেক দেরিতে। এর ফলে সময়মতো আখ কাটতে না পারায় তারা জমিতে রবিশস্য বা চৈতালী ফসল আবাদ করতে পারছেন না, যা তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে এবং আখ চাষে আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।


শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানান, সরকার চিনিকলগুলোকে লাভজনক করতে বহুমুখী পরিকল্পনা নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘শুধু চিনি উৎপাদন করে লাভ করা কঠিন। তাই চিনির পাশাপাশি উপজাত পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা চলছে। আমরা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সাথেও যোগাযোগ করছি।’