রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

নির্বাচনি প্রচারণায় হামলা, বিদ্বেষমূলক আচরণের প্রতিযোগিতা

সোনার দেশ ডেস্ক ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন রাজনীতি
সোনার দেশ ডেস্ক ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
নির্বাচনি প্রচারণায় হামলা, বিদ্বেষমূলক আচরণের প্রতিযোগিতা
নির্বাচনি প্রচারণায় হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজধানীর সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। সভা-সমাবেশের মধ্য দিয়ে কিংবা পায়ে হেঁটে ভোটারদের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়নের বার্তা দিয়ে নিজেদের জন্য ভোট চাইছেন তারা। তবে ভোট চাইতে গিয়ে একে অপরের প্রতি কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক আচরণ করছেন কম-বেশি সবাই। এমনকি ভোটের প্রচারণায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

জানা যায়, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৮ আসনের ১১ দলীয় জামায়াত জোট প্রার্থী আরিফুল ইসলাম খিলক্ষেতের ডুমনি এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় যান। সেখানে নূরপাড়া আলিম মাদ্রাসা মাঠে পৌঁছানোর পর তার নির্বাচনি প্রচারণায় হামলা করা হয়। এতে অন্তত দুজন আহত হন। হামলার ঘটনায় নিজের জীবন নিয়ে নিরাপত্তার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই প্রার্থী।

হামলার ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করে আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির স্থানীয় ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড নেতা দিদার মোল্লার নেতৃত্বে আমাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। তার সঙ্গে ছিলেন মোহাম্মদ সেলিম মিয়া, মো. ইসরাফিল, মোহাম্মদ নাহিন, মোহাম্মদ রানা আহমেদ ও সোহেল আহমেদ।’

নির্বাচনি হামলার পর নিজের শঙ্কার কথা সাংবাদিকদের জানাচ্ছেন আরিফুল ইসলামনির্বাচনি হামলার পর নিজের শঙ্কার কথা সাংবাদিকদের জানাচ্ছেন আরিফুল ইসলাম

নিজের ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা শঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদি যেমন সাধারণ মানুষ ছিলেন, তেমনই আমি ও আমাদের নেতাকর্মীরা সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এবং আমরা সাধারণ মানুষদের নিয়েই চলি। নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় আমি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছি।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ‘মানসিক চিকিৎসা’ প্রয়োজন: ইশরাক

ঢাকা-৮ আসনের ১০ দলীয় জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’ উল্লেখ করে তার ‘মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে সূত্রাপুর এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। গত রবিবার পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় চাঁদাবাজ এবং জমিদারদের বিরুদ্ধে ঢাকা-৬ আসনের মানুষকে রায় দেওয়ার আহ্বান জানানোর বক্তব্যের বিপরীতে ইশরাক এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য মানসিক বিকারগ্রস্ততার পরিচয় দেয়। তার চিকিৎসা প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজনৈতিক সৌহার্দ কীভাবে বজায় রাখতে হয় এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করা উচিত—তা তাকে শেখানো দরকার।’

এর আগে অন্য আরেক সভায় ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে স্বাস্থ্যখাতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। সেবা, নিয়োগ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।’

মির্জা আব্বাসকে দুর্নীতির বরপুত্র বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনে ১০ দল সমর্থিত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। 

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘তিনি (মির্জা আব্বাস) রাজউকের ফ্ল্যাট বিতরণ করেছিলেন। নির্বাচিত হলে এরকম দুর্নীতির বরপুত্র যারা আছেন ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের বিচারের আওতায় আনা‌ হবে।’

দখলবাজি-গুন্ডামির রাজনীতির বিরুদ্ধে মামুনুল হকের হুঁশিয়ারি

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দল সমর্থিত ঢাকা-১৩ আসনের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক ‘জাগরণী পদযাত্রা’য় বলেছেন, ‘সরকারি খাস জমি দখল করে ভূমিদস্যুরা ভোগ করবে, শিশু-কিশোররা খেলার মাঠ পাবে না—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই দখল বাণিজ্য চলতে দেওয়া হবে না। দখলবাজি ও গুণ্ডামির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘আপনারা আপনাদের দলগুলো রিফরমেশন করুন। যারা মানুষকে ভয় দেখিয়ে ও জিম্মি করে রাজনীতি করে—সেসব চাঁদাবাজ ও মাস্তানদের বাদ দিয়ে শিক্ষিত, ভদ্র ও নীতিবান মানুষদের নেতৃত্বে নিয়ে আসুন। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—এই দেশে আর গুন্ডামির রাজনীতি চলবে না।’

‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত হবে’

মিরপুর-৬ এলাকায় গণসংযোগ করতে গিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সমালোচনা করে ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক বলেছেন, ‘ক্ষমতায় গেলে ক্রিকেট বোর্ডের সব অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম একটি অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ক্রিকেট বোর্ড তৈরি হয়েছে। একজন সাবেক অনভিজ্ঞ ক্রীড়া উপদেষ্টার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে আজ দেশের ক্রিকেট বোর্ড কলঙ্কিত। তাদের ভুল নীতি আর ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে দেশের ক্রিকেটের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।’

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং আর ভোট কারচুপি ছাড়া আমরা নির্বাচন করতে চাই: মির্জা আব্বাস

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং আর ভোট কারচুপি ছাড়া আমরা নির্বাচন করতে চাই। যার ভোট যাকে খুশি তাকে দেবে—এই নীতিতে আমরা বিশ্বাসী।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমেই বিএনপি আজ এই জায়গায় এসেছে। কিন্তু কিছু লোক দাবি করে, তারাই সব করেছে—এমন মানসিকতা দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আজ একটি দল ভাবছে দেশটা তাদের হয়ে গেছে। কেউ কেউ বলে বিএনপিকে একটি সিটও দেওয়া হবে না। আমি প্রশ্ন করতে চাই—তোমরা সিট দেওয়ার কে? দেশ কী তোমরা ইজারা নিয়েছো? সিট দেওয়ার মালিক আল্লাহ।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই নির্বাচন বহু প্রতীক্ষিত। ভোট আদায়ের জন্য যেমন যুদ্ধ হয়েছে, ঠিক ভোট দেওয়ার জন্যও আরেকটি যুদ্ধ করতে হবে। ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং যারা করছে, তাদের একটি পরিকল্পনা আছে।’

তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন