ছুটিতে দেশে এসে বিয়ে করার কথা, ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে
ছুটিতে দেশে ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল তন্ময় আহমেদের (২৪)। পাত্রীর পরিবারের সঙ্গে বিয়ের কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত ছিল। বিয়ের জন্য কেনাকাটাও করে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু স্বপ্নের সেই দেশে ফিরেছেন কফিন বন্দী লাশ হয়ে।
সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ২৯ দিন পর মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে তন্ময় আহমেদের মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণ করে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভোরে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দেউলা গ্রামে নিয়ে যান। বেলা আড়াইটায় নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর সৌদি আরবে টাইলস তৈরির কারখানায় ক্রেন দুর্ঘটনায় তন্ময় আহমেদের মৃত্যু হয়। তিনি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দেউলা গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত তন্ময়ের বাবা জাহিদুল ইসলাম বলেন, চার বছর আগে আমার বড় ছেলে তন্ময় সৌদি আরবে যান। সেখানকার হায়েল শহরের একটি টাইলস তৈরির কারখানায় গাড়িচালক হিসেবে চাকরি নেয়। কারাখানা থেকে গাড়িতে করে টাইলস বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়া ছিল তার কাজ। গত ৩০ ডিসেম্বর তন্ময় দুর্ঘটনায় মারা যায়।
তিনি বলেন, সেদিন বিকেলে ছেলের মরার খবর পাই। কারখানার ভেতরে গাড়িতে টাইলস নেয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল। ক্রেনের উপর থেকে টাইলসের স্তূপ পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর রাখা হয় হিমঘরে।
তিনি আরও বলেন, ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ধারদেনা করে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। এখন সুখের সময় আর ছেলে আর থাকল না।
নিহত তন্ময়ের মা তসলিমা বেগম বলেন, ‘ব্যাটার সাতে প্রায়ই কতা হতো, মরার দুই দিন আগে শেষ কতা হচে। বলেছিল, মা বিদেশ আমাক ভালো লাগছে না, জানুয়ারির ১৫ তারিখে দেশে যাব। বিয়ের সবকিছু ঠিক করো, আমি বউয়ের জন্য সোনা কিনেছি, তোমরা অন্য বাজার করো।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দেশে এসে বিয়ে করার কথা ছিল তন্ময়ের। উপজেলার ধামিন কামনগর গ্রামের পছন্দের পাত্রীর সঙ্গে বিয়ে প্রায় ঠিক হয়েছিল। কনের বাড়িতে ৩০০ জন বরযাত্রী নিয়ে যাওয়ার কথা হয়েছিল। বেশ কিছু কেনাকাটাও করা হয়েছিল। সপ্তাহখানেক আগে তন্ময়ের নির্মাণ করা বাড়ির একটি কক্ষে খাট, সোফাসহ নতুন আসবাবপত্র আনা হয়। নতুন ঘরে সেগুলো সাজানোর কথা ছিল। দেশে এসে ওই ঘরেই থাকার কথা ছিল তন্ময়ের।