রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

অস্থির সবজির বাজার, বাড়ছে মুরগি ও ডিমের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:২৮ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
অস্থির সবজির বাজার, বাড়ছে মুরগি ও ডিমের দাম

রোজা শুরু হওয়ার আগে বাড়তে শুরু করেছে মুরগি ও ডিমের দাম। মৌসুমের শেষ দিকে হওয়ায় বাড়ছে শীতকালীন সবজির দাম। এছাড়াও রোজার প্রয়োজনী পণ্যর দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না বাজারে।  


শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজশাহী মহানগরীর, সাহেববাজার, সাগরপাড়া, উপভদ্রা ও শালবাগান বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়। বিক্রেতারা জানান, শীতের সবজির মৌসুম প্রায়ই শেষ পর্যায়ে, সরবরাহ কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তাই কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।


এ সপ্তাহে বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থাকে ৮০ টাকা, সিম ৬০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, দেশি শশা ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, গাজর (দেশি) ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, বরবটি ১৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শালগম ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৪০ থেকে ৫০টাকা এবং প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাড়েনি আলুর দাম। 


সাহেববাজারে বাজার করতে আসা রফিকুল ইসলাম নামের ক্রেতা বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম বাড়ে, কিন্তু আমাদের আয়রোজগার বাড়ার হিসাব কেউ করে না। বাজার করতে গেলে হিসাব মেলানো যায় না। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকেরা সব সময়েই বাজার করতে গিয়ে সংকটের মুখে পড়ি। আগে পাঁচ কেজি মাংস কিনতাম। এখন দুই কেজি কিনছি।


রোজা শুরুর আগে বেড়েছে ডিমের দাম। সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা হালি ও লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা হালিতে। এছাড়া হাঁস ও দেশী মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা হালিতে। অন্যদিকে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা কিছুদিন আগেও ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতো। একইভাবে সোনালি ও অন্যান্য জাতের মুরগির দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগেও সোনালি মুরগির দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা। তা বেড়ে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।


ইলিশ, রুই, কাতলা থেকে শুরু করে চাষের পাঙাশ, তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প মাছের দামও অনেক বেড়েছে। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ থেকে ৩২০, দেশি শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাঝারি সাইজের পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ও ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


নগরীর বিভিন্ন স্থানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়। নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকাতে। এছাড়াও খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা। গরুর মাংসের বিক্রেতা আগে মানুষ সলিড মাংস নিতে পারত, কিন্তু এখন দাম বাড়ায় মাথার মাংসের সঙ্গে মিলিয়ে বিক্রি করা লাগে। আর আগের মতো ক্রেতাও নেই। দোকানে প্রায় অলস সময় পার করা লাগে।


নতুন মাঝারি চালের পাইজাম কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে একই মানের পুরোনো চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। আর মানভেদে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮৬ টাকা পর্যন্ত, যা কিছুদিন আগেও ৪-৫ টাকা কম দামে পাওয়া যেত।


বাজারে প্রতি কেজি মনজুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম ৩-৪ টাকা বেড়ে ৮৩-৮৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা, নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় এবং দামি মিনিকেটের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে ৮৫-৮৬ টাকা হয়েছে।


একইভাবে বেড়েছে নাজিরশাইল চালের দামও। ধরনভেদে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে, যা ৮-১০ দিন আগে ৭০ থেকে ৮২ টাকায় পাওয়া যেত। আর এই সময়ে আমদানি করা নাজিরশাইলের দাম কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা হয়েছে। 


চিনি, মসুর ও মটর ডালের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ছোলা ও খেজুরের দর অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। চিনির দাম মণপ্রতি ১৫০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া ভারত থেকে আমদানি করা মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। মটর ডালের দামও প্রতি কেজিতে ৬ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে, ছোলার দাম এক মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম ২০ টাকা কমেছে। প্রতি মণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা দরে। এক মাস আগে তা বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৩০০ টাকায়। চিকন মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৬০ টাকায়। এক মাস আগে এই ডালের দাম ছিল ১৫০ টাকা কেজি। মোটা দানার মসুর ডাল এক মাস আগে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেজিপ্রতি ৮ টাকা কমে ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা খেজুর প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পাইকারিতে। একই খেজুর গত বছর রমজানে প্রতি কেজি ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। উন্নত মানের ছোলা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে এই ছোলা বিক্রি হয়েছিল কেজি ৯০ টাকায়। মধ্যম মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৮ থেকে ৭২ টাকা।