এআই জোয়ারে ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি তাইওয়ানের অর্থনীতিতে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জয়জয়কার আর যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বৃদ্ধিতে ভর করে গত বছর তাইওয়ানের অর্থনীতি ৮.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এটি গত ১৫ বছরের মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির রেকর্ড।
শুক্রবার দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থার প্রকাশিত এক অগ্রিম প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির হার অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি। ২০১০ সালের পর এটিই দেশটির অর্থনীতির সব থেকে শক্তিশালী অবস্থান।
চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি করেছে তাইওয়ান। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। এর বিনিময়ে তাইওয়ান থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো খাতগুলোতে এই বিনিয়োগ করা হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এর ফলে তাইওয়ানের রপ্তানি আয় আরও বাড়বে, যা চলতি বছরে দেশটির অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
ব্যাংক অব আমেরিকার অর্থনীতিবিদ শিয়াওচিং পি এবং হেলেন কিয়াও সাম্প্রতিক এক নোটে লিখেছেন, আমরা আশা করছি ২০২৬ সালেও তাইওয়ানের রপ্তানি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংশ্লিষ্ট পণ্যের চাহিদা বজায় থাকবে। বিশ্বজুড়ে এআই খাতে ক্রমাগত বিনিয়োগের ফলে এটি দেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এআই সার্ভার, কম্পিউটার চিপ এবং সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ (প্রিসিশন ইনস্ট্রুমেন্টস) তৈরির ক্ষেত্রে তাইওয়ান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। গত বছর দেশটির রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছিল, যার মূল চালিকাশক্তি ছিল প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট পণ্য। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির রপ্তানি বেড়েছে ৭৮ শতাংশ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এই জয়জয়কার তাইওয়ানের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ও আয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসির অন্যতম প্রধান গ্রাহক হলো এনভিডিয়া। বাজার মূলধনের দিক থেকে টিএসএমসি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোম্পানি। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ফক্সকন এনভিডিয়ার জন্য এআই সার্ভার তৈরির পাশাপাশি অ্যাপলের বিভিন্ন পণ্যও অ্যাসেম্বল বা সংযোজন করে থাকে।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, গত বছরের উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে চলতি বছরে এই গতি কিছুটা ধীর হতে পারে।
ডয়েচে ব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে তাইওয়ানের অর্থনীতি ৪.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রযুক্তি পণ্যের রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে এআইয়ের বর্তমান জোয়ারকে ঘিরে তৈরি হওয়া ‘বাবল’ এখন দেশটির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে মার্কিন শুল্ক নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চীন স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে থাকে। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে তাইওয়ানের চারপাশে চীন বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছে, যা দ্বীপটি অবরুদ্ধ বা দখল করে নেওয়ার আশঙ্কাকে আবারও উসকে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র : এপি, ঢাকাপোস্ট